1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঋণের টাকার চেয়ে পরিশোধ দ্বিগুণ, চাপে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩৪

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। জুলাই-আগস্ট সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। বিপরীতে সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ নতুন ঋণ পাওয়ার চেয়ে ৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করেছে সরকার।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে অর্থছাড় হয়েছিল ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে বেড়েছে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ। গত অর্থবছরের একই সময়ে সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পরিশোধিত ঋণের মধ্যে আসল ছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং সুদ ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আসল পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং সুদ ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

ঋণছাড় কমার কারণ কী

ইআরডির কর্মকর্তাদের মতে, আগের সরকারের সময়ে অপরিকল্পিতভাবে বৈদেশিক ঋণের অর্থে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু প্রকল্প বাস্তবে প্রয়োজনীয় ছিল না বলেও তারা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় এসব ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, দীর্ঘ সময় নির্বাচিত সরকার না থাকায় উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণদানের বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ কিছুটা বাড়ছে।

নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও কম

ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়লেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এখনো গত বছরের তুলনায় কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। জুলাই-আগস্ট সময়ে সংস্থাটি ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার ছাড় করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। জাপান দিয়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং রাশিয়া দিয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও চীন এ সময়ে কোনো ঋণের অর্থ ছাড় করেনি।

নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রেও গতি কম। বড় উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু জাপানের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। চীন, রাশিয়া ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কোনো নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

ফলে একদিকে নতুন বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় কমছে, অন্যদিকে আগের ঋণের সুদ-আসল পরিশোধ বাড়ছে। এতে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে বলে ইআরডির সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৮ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

ঋণের টাকার চেয়ে পরিশোধ দ্বিগুণ, চাপে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৮ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩৪

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। জুলাই-আগস্ট সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। বিপরীতে সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ নতুন ঋণ পাওয়ার চেয়ে ৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করেছে সরকার।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে অর্থছাড় হয়েছিল ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে বেড়েছে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ। গত অর্থবছরের একই সময়ে সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পরিশোধিত ঋণের মধ্যে আসল ছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং সুদ ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আসল পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং সুদ ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

ঋণছাড় কমার কারণ কী

ইআরডির কর্মকর্তাদের মতে, আগের সরকারের সময়ে অপরিকল্পিতভাবে বৈদেশিক ঋণের অর্থে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু প্রকল্প বাস্তবে প্রয়োজনীয় ছিল না বলেও তারা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় এসব ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, দীর্ঘ সময় নির্বাচিত সরকার না থাকায় উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণদানের বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ কিছুটা বাড়ছে।

নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও কম

ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়লেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এখনো গত বছরের তুলনায় কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। জুলাই-আগস্ট সময়ে সংস্থাটি ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার ছাড় করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। জাপান দিয়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং রাশিয়া দিয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

অন্যদিকে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও চীন এ সময়ে কোনো ঋণের অর্থ ছাড় করেনি।

নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রেও গতি কম। বড় উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু জাপানের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। চীন, রাশিয়া ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কোনো নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

ফলে একদিকে নতুন বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় কমছে, অন্যদিকে আগের ঋণের সুদ-আসল পরিশোধ বাড়ছে। এতে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে বলে ইআরডির সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে।