নতুন পদে যোগদানের ৩ মাসেই ফের পদোন্নতি বোর্ড, বেরোবি কর্মকর্তাকে ঘিরে প্রশ্ন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে ১৫ জন এবং অর্নুগ্রাম বহির্ভূত ২৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে নতুন করে এক কর্মকর্তার পদোন্নতি বোর্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পদোন্নতির জন্য পূর্বের পদে চার বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন থাকলেও নতুন পদে যোগদানের তিন মাসের মাথায় ফের পদোন্নতির জন্য বোর্ড পেয়েছেন কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান।
প্রতিবেদকের হাতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি সূত্রে জানা যায়, রোকনুজ্জামান ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর সেকশন অফিসার গ্রেড-১ পদে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি জুনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে অস্থায়ী নিয়োগ পান। পরে ৩৫তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তাঁর অস্থায়ী পদের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। ২০১৪ সালের ২৩ মে অনুষ্ঠিত ৪০তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে স্থায়ী রিসার্চ অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর পদোন্নতি পেয়ে ২০২৬ সালের জুনে সিনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে যোগ দেন রোকনুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার থেকে প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতির জন্য চার বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তবে যোগদানের প্রায় তিন মাসের মাথায় গত ৪ আগস্ট তাঁকে প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতির জন্য ফের বোর্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।এছাড়া তাকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিন্ডিকেট সভায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাকে ফের পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তারা।
এ নিয়ে ড. রোকনুজ্জামানের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করে আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে ফোন করা হলে তিনি আর সাড়া দেননি।
পদোন্নতি বোর্ডের সদস্য কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “কমিটির সদস্য হিসেবে এ পর্যায়ে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “এই কমিটিতে আমি নেই। তাই আমি কিছু বলতে পারছি না।তবে তিনি ১৫-১৬ বছর ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত বলে আমাকে জানানো হয়েছিল ।”
তবে একাধিক শিক্ষক দাবি করেছেন, অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম এই পদোন্নতি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় রোকনুজ্জামান ২০২৪ সালে একসঙ্গে দুটি পদোন্নতির আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে তাঁকে একটি সিনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
উপাচার্যের দাবি, “তিনি দেরিতে যোগদান করেছেন। তবে তাঁর পদোন্নতির এক বছর পার হয়েছে এবং দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকায় তাকে ফের পদোন্নতি বোর্ড দেওয়া হয়েছে।

























