লামায় গভীর রাতে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
প্রবাসী চিকিৎসকের জমি নিয়ে বিরোধ; স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ।
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুরবক পাতা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গভীর রাতে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরিবারের নারী সদস্যকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী এনামুল হক।
ভুক্তভোগীর দাবি, ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ৮-১০ জন ব্যক্তি তাঁর বসতঘরে হামলা চালায়। সরেজমিনে গিয়ে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা মাছের পুকুরের বেড়াও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা লাঠি ও দা নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলেও তাঁর দাবি।
এনামুল হক বলেন, “আমি রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। এ সময় তারা আমার বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায় এবং আমাকে খুঁজতে থাকে। প্রাণভয়ে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিই। আমাকে না পেয়ে তারা আমার স্ত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানিমূলক আচরণ করেছে বলে জানতে পারি। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে ন্যায়বিচার চাই।”
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কানাডাপ্রবাসী চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমানের খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর আগে জমি ‘ঠিক রাখতে’ এক লাখ টাকা দাবি, হুমকি-ভয়ভীতি এবং বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
এ ঘটনায় অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তাঁরা হলেন—বেলাল মিয়া (পিতা সুলতান আহাম্মাদ), মীরহামিদ (পিতা খলিল আহাম্মাদ), আবুল কাসেম (পিতা আব্দু সওয়ার), নূরুল ইসলাম (পিতা এজাহার মিয়া), আমির সুলতা (পিতা কালা মিয়া), নূরুল আমিন (পিতা এজাহের মিয়া) ও মকবুল হোসেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয়ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর কয়েকজনের ভাষ্য, গভীর রাতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।























