1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ৭২৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে

মোঃ আব্দুল আলীম, জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৭

শরতের আবহে হিন্দুধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজার আগমনী সুর বাজতে শুরু করেছে বগুড়ায়। আর ক’দিন পর মন্ডপ মুখরিত থাকবে ঢাকির ঢাকের শব্দে। এজন্য হিন্দুসম্প্রদায়ের প্রতিমা তৈরির শিল্পীদের যেন দম ফেলার ফুরসৎ নেই। সময়মত হস্তান্তর করার জন্য দিন-রাত সমানতালে কাজ করছেন প্রতিটি শিল্পী ও কারিগররা। অন্যদিকে আয়োজকরাও মন্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে কিভাবে আলোকসজ্জা হবে তার পরিকল্পনা করছেন।
পুঞ্জিকা মতে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গাপূজা। এবছর দশভুজার আগমন হবে ঘোড়ায়। ফিরে যাবেন নৌকায়। আর এই বিশেষ ক্ষণের জন্য দিন গুনছেন প্রতিটি ভক্ত অনুরাগী। এখন কেবল অপেক্ষা ঢাকের শব্দের।
জানা যায়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বগুড়া সদরসহ আশেপাশের বিভিন্ন মন্ডপে শিল্পীরা মন্ডপ এবং মন্ডপের বাইরে তাদের প্রতিমা তৈরির কাজ করে চলেছেন। প্রতিটি কারখানায় শিল্পীরা শেষ কাদামাটির প্রলেপ লাগাচ্ছেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। রোদে শুকানোর পর রং তুলির আঁচড় এবং অলংকরণ করে ফুটিয়ে তুলবেন সৌন্দর্য। এদিকে আয়োজকরাও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দৌঁড়ঝাপ করছেন।
বগুড়া শহরের উত্তরচেলোপাড়া বিশ্বকর্মা প্রতিমা কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিমাশিল্পীরা দেবীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে নির্মিত কাদা মাটির প্রতিমাগুলোতে এখন জীবন্ত রূপ দান করা হচ্ছে। তাদের হাতের শৈল্পিক ছোয়ায় দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠছে এক একটি প্রতিমা। এই কাজে প্রতিমাশিল্পীরা দিনরাত কাজ করছেন এবং দেবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। এরপর ষষ্ঠির দিন তারা নান্দনিক সৌন্দর্যের দেবীকে বুঝে দিবেন। শুধু প্রতিমা নয়, ডেকোরেটর মিস্ত্রিরাও পূজা মণ্ডপের গেইট, প্যান্ডেল, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও লাইটিংয়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরির কারখানার স্বত্বাধিকারী কাজল চন্দ্র প্রামানিক জানান, এবছর বগুড়া সদর, আশেপাশের উপজেলাসহ জামালপুর জেলা ও নওগাঁ জেলা থেকে ২০টি প্রতিমা সেটের অর্ডার পেয়েছি। গতবারের চেয়ে এবার অর্ডার কম নিয়েছেন। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কারিগর শ্রমিকদের খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রতিটি সেট ২৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকায় অর্ডার নিয়েছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৩টি উপজেলায় এবার ৭২৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশ ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মন্ডপে থাকবে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা। গত বছর দুর্গাপুজার আয়োজন করা হয়েছিল ৬৮১টি মন্ডপে। সে তুলনায় এবার দুর্গাপূজার আয়োজন বেড়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া মহানগর কমিটির সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, এবছর বগুড়া জেলায় ৭২৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যাপক উৎসব মুখর পরিবেশে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। পূজায় মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে কোন শংকা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ডপে মন্ডপে নিরাপত্তকর্মী থাকবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পূজার ছুটি বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দও আগের চেয়ে বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে বগুড়ার মন্ডপগুলো। থাকবে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর টহল ও নজরদারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:০২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ায় ৭২৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৩:১৭:০২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
৭

শরতের আবহে হিন্দুধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপূজার আগমনী সুর বাজতে শুরু করেছে বগুড়ায়। আর ক’দিন পর মন্ডপ মুখরিত থাকবে ঢাকির ঢাকের শব্দে। এজন্য হিন্দুসম্প্রদায়ের প্রতিমা তৈরির শিল্পীদের যেন দম ফেলার ফুরসৎ নেই। সময়মত হস্তান্তর করার জন্য দিন-রাত সমানতালে কাজ করছেন প্রতিটি শিল্পী ও কারিগররা। অন্যদিকে আয়োজকরাও মন্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে কিভাবে আলোকসজ্জা হবে তার পরিকল্পনা করছেন।
পুঞ্জিকা মতে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গাপূজা। এবছর দশভুজার আগমন হবে ঘোড়ায়। ফিরে যাবেন নৌকায়। আর এই বিশেষ ক্ষণের জন্য দিন গুনছেন প্রতিটি ভক্ত অনুরাগী। এখন কেবল অপেক্ষা ঢাকের শব্দের।
জানা যায়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বগুড়া সদরসহ আশেপাশের বিভিন্ন মন্ডপে শিল্পীরা মন্ডপ এবং মন্ডপের বাইরে তাদের প্রতিমা তৈরির কাজ করে চলেছেন। প্রতিটি কারখানায় শিল্পীরা শেষ কাদামাটির প্রলেপ লাগাচ্ছেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। রোদে শুকানোর পর রং তুলির আঁচড় এবং অলংকরণ করে ফুটিয়ে তুলবেন সৌন্দর্য। এদিকে আয়োজকরাও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দৌঁড়ঝাপ করছেন।
বগুড়া শহরের উত্তরচেলোপাড়া বিশ্বকর্মা প্রতিমা কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিমাশিল্পীরা দেবীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে নির্মিত কাদা মাটির প্রতিমাগুলোতে এখন জীবন্ত রূপ দান করা হচ্ছে। তাদের হাতের শৈল্পিক ছোয়ায় দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠছে এক একটি প্রতিমা। এই কাজে প্রতিমাশিল্পীরা দিনরাত কাজ করছেন এবং দেবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। এরপর ষষ্ঠির দিন তারা নান্দনিক সৌন্দর্যের দেবীকে বুঝে দিবেন। শুধু প্রতিমা নয়, ডেকোরেটর মিস্ত্রিরাও পূজা মণ্ডপের গেইট, প্যান্ডেল, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও লাইটিংয়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরির কারখানার স্বত্বাধিকারী কাজল চন্দ্র প্রামানিক জানান, এবছর বগুড়া সদর, আশেপাশের উপজেলাসহ জামালপুর জেলা ও নওগাঁ জেলা থেকে ২০টি প্রতিমা সেটের অর্ডার পেয়েছি। গতবারের চেয়ে এবার অর্ডার কম নিয়েছেন। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কারিগর শ্রমিকদের খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রতিটি সেট ২৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকায় অর্ডার নিয়েছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৩টি উপজেলায় এবার ৭২৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশ ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মন্ডপে থাকবে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা। গত বছর দুর্গাপুজার আয়োজন করা হয়েছিল ৬৮১টি মন্ডপে। সে তুলনায় এবার দুর্গাপূজার আয়োজন বেড়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া মহানগর কমিটির সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, এবছর বগুড়া জেলায় ৭২৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যাপক উৎসব মুখর পরিবেশে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। পূজায় মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে কোন শংকা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ডপে মন্ডপে নিরাপত্তকর্মী থাকবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পূজার ছুটি বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দও আগের চেয়ে বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে বগুড়ার মন্ডপগুলো। থাকবে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর টহল ও নজরদারি।