নতুন কর্মস্পৃহায় কাজের আহ্বান বাকৃবি অফিসার পরিষদকে
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অফিসার পরিষদ ২০২৬-২৭ বছরের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাকৃবি অফিসার পরিষদ।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার পরিষদের সভাপতি ড. এ. কে. এম. মাহবুবুর রশীদ গোলাপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান সরকার রোকন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মোতাহার হোসেন তালুকদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে বরণ করে নেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। পরে বক্তারা নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এসময় বক্তারা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুনদের নতুন কর্মস্পৃহা নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় দেশের নেতৃত্ব ধরে রাখতে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, বাকৃবির নবগঠিত অফিসার পরিষদের নেতৃবৃন্দের প্রতি শুভকামনা। বাকৃবিকে এগিয়ে নিতে হলে আপনাদের কর্মস্পৃহা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে হবে। শহীদ জিয়াউর রহমানের সেই কথা স্মরণ করতে চাই, তিনি বলতেন ‘কথা কম কাজ বেশি’। আজকে যারা এই পরিবারে আছেন তারা সুন্দর ভাবে কাজ করে যাবেন।
এসময় মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনার বাসার আশেপাশে সন্ধ্যার পরে খেয়াল করলে দেখবেন মাদক বিক্রি হচ্ছে এবং সেবন হচ্ছে। আপনি কোথাও যাওয়ার পথে মাদকসেবীদের দেখেও এড়িয়ে গেলেন, ভাবলেন অমুকের ছেলে খাচ্ছে, আমার কি? আমার ছেলে মসজিদে যায়। কিন্তু মাদক একদিন আপনার মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলেকেও প্রভাবিত করবে। একদিন, দুইদিন করে সেবন করাবে এবং একপর্যায়ে সে আসক্ত হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, প্রশাসন বা এমপি, চেয়ারম্যান বা প্রশাসক তারা একা পারবে না যদি আপনারাও দায়িত্ব না নেন। সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, অফিসার পরিষদের বিজয়ীদের অভিনন্দন জানাই। আমাদের মূল উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। আর দ্বিতীয়ত আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হয় সেজন্য প্রশাসনের সাথে নিয়মতান্ত্রিক ও সুন্দরভাবে আলোচনা করা।
নির্বাচিত অফিসারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যে শপথ নিয়েছেন এবং শপথে যা উল্লেখ করেছেন, তার যথাযথভাবে অনুসরণ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। কোনো দাবিদাওয়া থাকলে তা প্রশাসনিক ও নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।


























