1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়’, আবেগঘন বক্তব্যে মেসি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৯

২১ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবার ইতি টানলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ শেষে আবেগঘন বক্তব্যে নিজের অর্জন, সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা।

এস্তাদিও মনুমেন্তালে মেসিকে ঘিরেই ছিল পুরো আয়োজন। বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে বেনিনকে হারিয়ে সেই আয়োজনকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের তিন গোলেই অবদান রাখেন মেসি। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে গোল করানোর পর নিজেও পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি।

মাইক হাতে নেওয়ার শুরুতে মেসির মুখে ছিল চওড়া হাসি। কিছুক্ষণ পরই ভিজে ওঠে চোখ। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্মরণ করেন সম্প্রতি হারানো বাবা হোর্হে মেসিকে।

মেসি বলেন, ‘কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছে। আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা। আমি আপনাদের সবাইকে শুধু ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়।’

জাতীয় দলের হয়ে লড়াইয়ের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। আমরা আবারও বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। বিশ্বকাপে নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলাম আমরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক বড় ছিল। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করেছি, সারাজীবন লড়াই করেছি।’

বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। তিনি বলেন, ‘এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না। আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’

সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘আমি আমার সব সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ—বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব।’

ভক্তদের ভালোবাসার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মেসি। তার ভাষায়, ‘আমি যেখানেই গিয়েছি, স্টেডিয়াম সব সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মনে হতো আমরা যেখানেই খেলছি, সেটাই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।’

নিজের উত্তরসূরিদের শুভকামনা জানিয়ে মেসি ভবিষ্যতের কঠিন সময় নিয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব—এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন সময় সামনে আসছে। সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’

শেষ মুহূর্তে ভক্তদের উদ্দেশে মেসির কথাগুলো আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

‘বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়’, আবেগঘন বক্তব্যে মেসি

আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২৯

২১ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবার ইতি টানলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ শেষে আবেগঘন বক্তব্যে নিজের অর্জন, সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা।

এস্তাদিও মনুমেন্তালে মেসিকে ঘিরেই ছিল পুরো আয়োজন। বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে বেনিনকে হারিয়ে সেই আয়োজনকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের তিন গোলেই অবদান রাখেন মেসি। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে গোল করানোর পর নিজেও পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি।

মাইক হাতে নেওয়ার শুরুতে মেসির মুখে ছিল চওড়া হাসি। কিছুক্ষণ পরই ভিজে ওঠে চোখ। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্মরণ করেন সম্প্রতি হারানো বাবা হোর্হে মেসিকে।

মেসি বলেন, ‘কী বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছুই ঘুরছে। আজকের এই রাতে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা। আমি আপনাদের সবাইকে শুধু ধন্যবাদ জানাতে পারি। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শার্টটির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য ছিল এক বিরাট গর্বের বিষয়।’

জাতীয় দলের হয়ে লড়াইয়ের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো লড়াই থামাইনি, নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। আমরা আবারও বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। বিশ্বকাপে নিজেদের সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলাম আমরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক বড় ছিল। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করেছি, সারাজীবন লড়াই করেছি।’

বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। তিনি বলেন, ‘এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলছি, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না। আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।’

সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘আমি আমার সব সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ—বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সব সময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিলাম। আমি এই পরিবেশটাকে খুব মিস করব।’

ভক্তদের ভালোবাসার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মেসি। তার ভাষায়, ‘আমি যেখানেই গিয়েছি, স্টেডিয়াম সব সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মনে হতো আমরা যেখানেই খেলছি, সেটাই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।’

নিজের উত্তরসূরিদের শুভকামনা জানিয়ে মেসি ভবিষ্যতের কঠিন সময় নিয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে অন্য পাশে থাকব—এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে তাদের সবার জন্য শুভকামনা জানাব ও সমর্থন দিয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন সময় সামনে আসছে। সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, কারণ কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।’

শেষ মুহূর্তে ভক্তদের উদ্দেশে মেসির কথাগুলো আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, আর আপনাদের সবাইকে আমি খুব মিস করব। আমি একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত। আমি নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে সত্যি গর্বিত।’