1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে শিক্ষকের ‘নির্যাতনে’ স্কুল ছাড়ল শিশু শিক্ষার্থী

মো বাদল শেখ গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৯

গোপালগঞ্জে কাশিয়ানীতে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নানা অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং কলম চুরির অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের ১৬১ নং কলসি ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিতু রহমানের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা কৃষক মো. সাজু মোল্লা।

অভিযোগে বলা হয়েছে , ৪র্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে ক্লাসে পড়ালেখায় দুর্বলতার সুযোগে পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে ৩ মাস প্রাইভেট পড়ান সহকারী শিক্ষিকা মিতু রহমান। বকেয়া প্রাইভেট ফি বাবদ এক হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও ওই শিক্ষিকা আরও ৫০০ টাকা দাবি করেন।

একপর্যায়ে টাকা না পেয়ে স্কুলে পোশাক তৈরির জন্য জমা দেওয়া ৪৭০ টাকা নিয়ে নেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে স্কুলের অন্য এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে শুরু করলে শিক্ষক মিতু রহমান ক্ষিপ্ত হন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা সাজু মোল্লা বলেন, ‘প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে শিক্ষিকা মিতু রহমান আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ‘কলম চুরি’র অপবাদ দেন। সহপাঠীদের তার সঙ্গে কথা বলতে বা মিশতে নিষেধ করেন। এমনকি সহপাঠীদের উদ্দেশ্য করে ওই শিক্ষিকা বলেন ‘ওর সাথে তোমরা মিশলে অপবিত্র হয়ে যাবা।’

তিনি আরও বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে অন্য সবাইকে পড়া দাগিয়ে দিলেও তার মেয়েকে পড়া দেননি ওই শিক্ষিকা। পরের দিন পড়া না পারার অজুহাতে তাকে শ্রেণিকক্ষে মারধর করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষিকা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে আমার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। পড়ালেখা ও খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা প্রকাশ করে। এ বিষয় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তিনি নিজেই ওই শিক্ষিকার ব্যাপারে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।

মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর স্কুলে গিয়ে খোঁজ নিই। মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে গত ৫ অক্টোবর স্কুল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তাকে অন্য স্কুলে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’

অভিযুক্ত শিক্ষিকা মিতু রহমানের বিরুদ্ধে এরআগেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। নানা বিতর্কের কারণেই তাকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুন ওই শিক্ষিকার বিষয় অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বিষয়টি ওই ছাত্রীর অভিভাবকের কাছ থেকে শুনেছি। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমি আসলে ঝামেলা পছন্দ করি না।’

অভিযুক্ত শিক্ষিকা মিতু রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই তিনি উত্তেজিত বলেন, ‘আমার কর্মকর্তা কি আপনাকে তদন্তের জন্য নাম্বার দিয়েছেন। তদন্ত হবে, প্রতিবেদন আসবে। আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে। তাদের সাথে কথা বলে তারপর রিপোর্ট করবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. জ্যোৎস্না খাতুন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:২৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জে শিক্ষকের ‘নির্যাতনে’ স্কুল ছাড়ল শিশু শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০১:৩৫:২৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
৯

গোপালগঞ্জে কাশিয়ানীতে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নানা অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং কলম চুরির অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের ১৬১ নং কলসি ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিতু রহমানের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা কৃষক মো. সাজু মোল্লা।

অভিযোগে বলা হয়েছে , ৪র্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে ক্লাসে পড়ালেখায় দুর্বলতার সুযোগে পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে ৩ মাস প্রাইভেট পড়ান সহকারী শিক্ষিকা মিতু রহমান। বকেয়া প্রাইভেট ফি বাবদ এক হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও ওই শিক্ষিকা আরও ৫০০ টাকা দাবি করেন।

একপর্যায়ে টাকা না পেয়ে স্কুলে পোশাক তৈরির জন্য জমা দেওয়া ৪৭০ টাকা নিয়ে নেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে স্কুলের অন্য এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে শুরু করলে শিক্ষক মিতু রহমান ক্ষিপ্ত হন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা সাজু মোল্লা বলেন, ‘প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে শিক্ষিকা মিতু রহমান আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ‘কলম চুরি’র অপবাদ দেন। সহপাঠীদের তার সঙ্গে কথা বলতে বা মিশতে নিষেধ করেন। এমনকি সহপাঠীদের উদ্দেশ্য করে ওই শিক্ষিকা বলেন ‘ওর সাথে তোমরা মিশলে অপবিত্র হয়ে যাবা।’

তিনি আরও বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে অন্য সবাইকে পড়া দাগিয়ে দিলেও তার মেয়েকে পড়া দেননি ওই শিক্ষিকা। পরের দিন পড়া না পারার অজুহাতে তাকে শ্রেণিকক্ষে মারধর করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষিকা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে আমার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। পড়ালেখা ও খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা প্রকাশ করে। এ বিষয় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তিনি নিজেই ওই শিক্ষিকার ব্যাপারে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।

মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর স্কুলে গিয়ে খোঁজ নিই। মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে গত ৫ অক্টোবর স্কুল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তাকে অন্য স্কুলে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’

অভিযুক্ত শিক্ষিকা মিতু রহমানের বিরুদ্ধে এরআগেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। নানা বিতর্কের কারণেই তাকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুন ওই শিক্ষিকার বিষয় অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বিষয়টি ওই ছাত্রীর অভিভাবকের কাছ থেকে শুনেছি। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমি আসলে ঝামেলা পছন্দ করি না।’

অভিযুক্ত শিক্ষিকা মিতু রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই তিনি উত্তেজিত বলেন, ‘আমার কর্মকর্তা কি আপনাকে তদন্তের জন্য নাম্বার দিয়েছেন। তদন্ত হবে, প্রতিবেদন আসবে। আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে। তাদের সাথে কথা বলে তারপর রিপোর্ট করবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. জ্যোৎস্না খাতুন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।