1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দমদমিয়া জেটিঘাট চালুর দাবিতে মানববন্ধন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা

টেকনাফ প্রতিনিধি:কায়সার উদ্দিন নূর
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৪

কক্সবাজারের টেকনাফে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা দমদমিয়া জেটিঘাট পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলীর নেতৃত্বে দমদমিয়া বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জেটিঘাটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানান অংশগ্রহণকারীরা।

একসময় সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাট ছিল দমদমিয়া জেটিঘাট। পর্যটক পরিবহনের পাশাপাশি সেন্টমার্টিনে পণ্য ও মালামাল পরিবহনেও ঘাটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তবে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাতের কারণে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি এবং নাফ নদীর নাব্যতা সংকটের ফলে ঘাটটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন অনেক স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে দমদমিয়া জেটিঘাট দিয়ে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাফ নদীর বিভিন্ন স্থানে পানির গভীরতা কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি নৌযান লক্ষ্য করে গুলি আসার ঘটনাকে এ পথ বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পর্যটন মৌসুমে দমদমিয়া জেটিঘাট এলাকায় পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা থাকত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমজমাট থাকত পুরো এলাকা। পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্রেতা ও পর্যটকের অভাবে অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

দমদমিয়া জেটিঘাট এলাকার বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এলাকার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। পর্যটক না এলে এখানে ব্যবসা হয় না। আগে পর্যটন মৌসুমে পুরো এলাকা জমজমাট থাকত, এখন প্রায় জনশূন্য।”

স্থানীয় দোকানি আবদুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘাট এলাকায় দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু জেটিঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর ব্যবসা অচল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষায় ঘাটটি পুনরায় চালুর দাবি জানান তিনি।

সেন্টমার্টিনের ব্যবসায়ী নুর আহমেদের মতে, কক্সবাজার থেকে জাহাজে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতে বর্তমানে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ যাত্রায় প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে পর্যটকদের দীর্ঘ সময় জাহাজে থাকতে হয় এবং দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক পর্যটকেরা দ্বীপে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর সুযোগ পান না।

অন্যদিকে, হোয়াইক্যং এলাকার নৌযানমালিক শহীদুল্লাহ বলেন, দমদমিয়া জেটিঘাট দিয়ে সহজে, তুলনামূলক নিরাপদে ও কম খরচে যাত্রী এবং মালামাল পরিবহন করা যেত। ঘাটটি পুনরায় চালু করা হলে টেকনাফ, দমদমিয়া ও সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠী আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই। দমদমিয়া থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরুর কোনো পরিকল্পনার কথাও তিনি এখনো শোনেননি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সীমান্ত পরিস্থিতি ও নৌপথের নিরাপত্তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে দমদমিয়া জেটিঘাট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে পর্যটন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০২ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

দমদমিয়া জেটিঘাট চালুর দাবিতে মানববন্ধন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০২ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৪

কক্সবাজারের টেকনাফে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা দমদমিয়া জেটিঘাট পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলীর নেতৃত্বে দমদমিয়া বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জেটিঘাটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানান অংশগ্রহণকারীরা।

একসময় সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাট ছিল দমদমিয়া জেটিঘাট। পর্যটক পরিবহনের পাশাপাশি সেন্টমার্টিনে পণ্য ও মালামাল পরিবহনেও ঘাটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তবে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাতের কারণে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি এবং নাফ নদীর নাব্যতা সংকটের ফলে ঘাটটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন অনেক স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে দমদমিয়া জেটিঘাট দিয়ে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাফ নদীর বিভিন্ন স্থানে পানির গভীরতা কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি নৌযান লক্ষ্য করে গুলি আসার ঘটনাকে এ পথ বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পর্যটন মৌসুমে দমদমিয়া জেটিঘাট এলাকায় পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা থাকত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমজমাট থাকত পুরো এলাকা। পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্রেতা ও পর্যটকের অভাবে অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

দমদমিয়া জেটিঘাট এলাকার বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এলাকার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। পর্যটক না এলে এখানে ব্যবসা হয় না। আগে পর্যটন মৌসুমে পুরো এলাকা জমজমাট থাকত, এখন প্রায় জনশূন্য।”

স্থানীয় দোকানি আবদুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘাট এলাকায় দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু জেটিঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর ব্যবসা অচল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষায় ঘাটটি পুনরায় চালুর দাবি জানান তিনি।

সেন্টমার্টিনের ব্যবসায়ী নুর আহমেদের মতে, কক্সবাজার থেকে জাহাজে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতে বর্তমানে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ যাত্রায় প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে পর্যটকদের দীর্ঘ সময় জাহাজে থাকতে হয় এবং দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক পর্যটকেরা দ্বীপে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর সুযোগ পান না।

অন্যদিকে, হোয়াইক্যং এলাকার নৌযানমালিক শহীদুল্লাহ বলেন, দমদমিয়া জেটিঘাট দিয়ে সহজে, তুলনামূলক নিরাপদে ও কম খরচে যাত্রী এবং মালামাল পরিবহন করা যেত। ঘাটটি পুনরায় চালু করা হলে টেকনাফ, দমদমিয়া ও সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠী আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই। দমদমিয়া থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরুর কোনো পরিকল্পনার কথাও তিনি এখনো শোনেননি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সীমান্ত পরিস্থিতি ও নৌপথের নিরাপত্তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে দমদমিয়া জেটিঘাট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে পর্যটন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।