1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুভ মহালয়া আজ: শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু

পলাশ পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৩

​বাজে ঢাকের কাঠি, শাঁখ আর উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। আকাশে মেঘ আর রোদের লুকোচুরি খেলা জানান দিচ্ছে হেমন্তের আগমনী বার্তা। বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও প্রাণের উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্য লগ্ন— আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। একই সঙ্গে পিনাকী পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে মর্ত্যালোকে শুরু হলো দেবীপক্ষের শুভ সূচনা।
​মহালয়ার তাৎপর্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস
​শাস্ত্র মতে, মহালয়া হলো পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষের এক অপূর্ব সন্ধিক্ষণ। আজ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই মন্দিরে মন্দিরে চণ্ডীপাঠের গম্ভীর ধ্বনিতে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হয়েছে। পুরাণ বলে, এই বিশেষ তিথিতেই ত্রিবলোকের সুরক্ষায় দেবী দুর্গা মহিষাসুর নিধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। শিবের বর ছিল—কোনো পুরুষ মানুষ বা দেবতা মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। এই অচলাবস্থা দূর করতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব—এই ত্রয়ী শক্তির সম্মিলিত তেজ থেকে সৃষ্টি হয় ‘মহামায়া’ বা অমোঘ নারীশক্তি। পরবর্তী সময়ে দশটি অস্ত্রে সুসজ্জিত ও সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা নয় দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অসুরকুলকে পরাজিত ও মহিষাসুরকে বধ করেন।
​মহালয়ার আরেকটি অন্যতম পবিত্র অংশ হলো তর্পণ। মহালয়ার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন নদীর ঘাট, জলাশয় ও মন্দিরে ভক্তরা সমবেত হয়ে পরলোকগত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে জল ও তিল প্রদান করেন। সনাতন ধর্মাববিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মারা মর্ত্যের খুব কাছাকাছি আসেন এবং তর্পণের মাধ্যমে তাদের আত্মার তৃপ্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।
​পূজা উদযাপন ও উৎসবের সূচি
​মহালয়া উপলক্ষ্যে আজ নেত্রকোনাসহ দেশের প্রতিটি মন্দির ও পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। ঘট স্থাপন, চণ্ডীপাঠ এবং অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীকে বরণ করে নিচ্ছেন।
​উৎসবের পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর বোধন ও ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হবে মূল দুর্গাপূজার আনন্দযজ্ঞ। টানা পাঁচদিনের এই উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সব স্তরের মানুষের মাঝে, যার সমাপ্তি ঘটবে আগামী ২১ অক্টোবর ‘বিজয়া দশমী’র বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।
​মহালয়ার এই পবিত্র প্রভাতে অসুরবিনাশী মহাশক্তির শক্তিরূপিণী দেবী দুর্গার আশীর্বাদে পৃথিবী থেকে সকল গ্লানি, অন্যায় ও অশুভ শক্তির অবসান ঘটুক—এটাই প্রতিটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর প্রার্থনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:১৬ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

শুভ মহালয়া আজ: শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু

আপডেট সময় : ০৪:২৪:১৬ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
১৩

​বাজে ঢাকের কাঠি, শাঁখ আর উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। আকাশে মেঘ আর রোদের লুকোচুরি খেলা জানান দিচ্ছে হেমন্তের আগমনী বার্তা। বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও প্রাণের উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্য লগ্ন— আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। একই সঙ্গে পিনাকী পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে মর্ত্যালোকে শুরু হলো দেবীপক্ষের শুভ সূচনা।
​মহালয়ার তাৎপর্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস
​শাস্ত্র মতে, মহালয়া হলো পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষের এক অপূর্ব সন্ধিক্ষণ। আজ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই মন্দিরে মন্দিরে চণ্ডীপাঠের গম্ভীর ধ্বনিতে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হয়েছে। পুরাণ বলে, এই বিশেষ তিথিতেই ত্রিবলোকের সুরক্ষায় দেবী দুর্গা মহিষাসুর নিধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। শিবের বর ছিল—কোনো পুরুষ মানুষ বা দেবতা মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। এই অচলাবস্থা দূর করতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব—এই ত্রয়ী শক্তির সম্মিলিত তেজ থেকে সৃষ্টি হয় ‘মহামায়া’ বা অমোঘ নারীশক্তি। পরবর্তী সময়ে দশটি অস্ত্রে সুসজ্জিত ও সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা নয় দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অসুরকুলকে পরাজিত ও মহিষাসুরকে বধ করেন।
​মহালয়ার আরেকটি অন্যতম পবিত্র অংশ হলো তর্পণ। মহালয়ার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন নদীর ঘাট, জলাশয় ও মন্দিরে ভক্তরা সমবেত হয়ে পরলোকগত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে জল ও তিল প্রদান করেন। সনাতন ধর্মাববিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মারা মর্ত্যের খুব কাছাকাছি আসেন এবং তর্পণের মাধ্যমে তাদের আত্মার তৃপ্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।
​পূজা উদযাপন ও উৎসবের সূচি
​মহালয়া উপলক্ষ্যে আজ নেত্রকোনাসহ দেশের প্রতিটি মন্দির ও পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। ঘট স্থাপন, চণ্ডীপাঠ এবং অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীকে বরণ করে নিচ্ছেন।
​উৎসবের পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর বোধন ও ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হবে মূল দুর্গাপূজার আনন্দযজ্ঞ। টানা পাঁচদিনের এই উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সব স্তরের মানুষের মাঝে, যার সমাপ্তি ঘটবে আগামী ২১ অক্টোবর ‘বিজয়া দশমী’র বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।
​মহালয়ার এই পবিত্র প্রভাতে অসুরবিনাশী মহাশক্তির শক্তিরূপিণী দেবী দুর্গার আশীর্বাদে পৃথিবী থেকে সকল গ্লানি, অন্যায় ও অশুভ শক্তির অবসান ঘটুক—এটাই প্রতিটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর প্রার্থনা।