ফাঁসিয়াখালীতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ: পাহাড়-প্রকৃতি বিপন্ন, মাসোহারা কারা নেয়?
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মালুম্যা ও বগাইছড়ি এলাকায় বালু উত্তোলন ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন চলছে। এতে পাহাড়, ছড়া, খাল ও আশপাশের পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—এ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, আর বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?
পুরোনো সমস্যা, নতুন করে প্রশ্ন
ফাঁসিয়াখালীতে বালু উত্তোলন নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক এবং পরবর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বগাইছড়ি, মালুম্যা ও আশপাশের এলাকায় বালু উত্তোলন এবং পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টেও লামা উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ; ।
এমন প্রেক্ষাপটে স্থানীয়দের নতুন অভিযোগ, মালুম্যা ও বগাইছড়ির বিভিন্ন স্থানে এখনো বালু উত্তোলন চলছে। তাঁদের দাবি, কিছু এলাকায় পাহাড়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের পরিমাণ, বর্তমানে সচল উত্তোলনকেন্দ্রের সংখ্যা এবং প্রতিটি স্থানের বৈধতা সরেজমিন যাচাই করে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মাসে ১৫ হাজার টাকা—কার কাছে যায়?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বালু ব্যবসায়ীর দাবি, বালু উত্তোলনের ব্যবসা পরিচালনা করতে মাসে ১৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা চালানো হয়।
এই বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো হলো—টাকাটি কাকে দেওয়া হয়, কী কারণে দেওয়া হয়, লেনদেনের কোনো নথি বা প্রত্যক্ষ সাক্ষী আছেন কি না এবং এর সঙ্গে সরকারি কোনো কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।
এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই কাউকে অর্থ গ্রহণকারী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে প্রমাণ সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
যাঁদের নাম অভিযোগে এসেছে
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যে সোনা মিয়া ওরফে ‘বালু সোনা’, আব্দুল হাকিম, আবুল হোসেন এবং শাহারিয়ার আলমের নাম উঠে এসেছে। বগাইছড়ি ও মালুম্যা এলাকায় তাঁদের কয়েকজনের বালু উত্তোলন কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের কাউকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী বা কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা যায় না। অভিযোগ যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা এবং তাঁদের বক্তব্য নেওয়ার পরই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
প্রশাসনের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন
মালুম্যা ও বগাইছড়িতে বর্তমানে কতটি স্থানে বালু উত্তোলন হচ্ছে এবং সেগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন নাই
অভিযোগ অনুযায়ী, পাহাড় বা টিলার অংশ কেটে বালু উত্তোলন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে না
মাসিক ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না
আগে অভিযান হয়ে থাকলে পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু হচ্ছে কি না, তা নজরদারির জন্য কী ব্যবস্থা রয়েছে?
পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উত্তোলন বন্ধ এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে?
শেষ কথা
বালু উত্তোলন বৈধ না অবৈধ—তা নির্ধারণে অনুমোদন, ইজারা, উত্তোলনস্থলের অবস্থান এবং প্রযোজ্য আইনি বিধান যাচাই করা প্রয়োজন। তবে পাহাড়, টিলা ও পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।























