লামায় সার্ভেয়ার আতিকের বিরুদ্ধে ভুয়া তদন্ত রিপোর্টের অভিযোগ: প্রতিকার চেয়ে আদালতে নারাজি
বান্দরবানের লামা উপজেলা ভূমি অফিসের ল্যান্ড সার্ভেয়ার মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কাল্পনিক ও ভুয়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিবাদীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এবং বিশেষ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রকৃত মালিককে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে তিনি এই একপেশে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পক্ষ দাবি করেছে। এই জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে লিখিত আপত্তি (নারাজি) দাখিল করা হয়েছে।
আদালত ও মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, লামা পৌরসভার ০৬নং ওয়ার্ডের কলিঙ্গবিল এলাকার (২৯৩নং ছাগল খাইয়া মৌজা) মৃত সুরুজ মিয়ার কন্যা মোছাঃ জেসমিন আক্তার (বাদী) তাঁর পৈত্রিক ওয়ারিশী সম্পত্তি বেদখল হওয়ার প্রতিকার চেয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আদালত-০১) একটি মামলা (মিস মামলা নং- ৯৩/২০২৩) দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে একই এলাকার মোঃ কবির হোসেন ও মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে।
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, ২৯৩ নম্বর ছাগলখাইয়া মৌজার (চাষ) খতিয়ান নং-১০০ (হোল্ডিং নং-৮৬), খতিয়ান নং-৩৩৬ এবং খতিয়ান নং-৪৩১ এর আওতাধীন ১ম ও ২য় শ্রেণীর মোট ভূমিতে তিনি আইনানুগ মালিক ও দখলদার ছিলেন। কিন্তু বিগত ১০/১১/২০২৩ ইংরেজি তারিখে বিবাদীগণ বহিরাগত লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক তাঁকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করেন।
আদালত উক্ত নালিশি ভূমির বাস্তব অবস্থা ও মালিকানা যাচাইয়ের জন্য লামা উপজেলা ভূমি অফিসকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব পান সার্ভেয়ার মো. আতিকুর রহমান।
ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান সরেজমিনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষভাবে সীমানা ও নথিপত্র যাচাই করেননি। এমনকি তিনি মূল আরজির ছাগলখাইয়া মৌজাকে প্রতিবেদনে ‘হ্যাঙ্গরপাড়া মৌজা’ হিসেবে উল্লেখ করে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য দিয়েছেন। বিবাদী কবির হোসেন গংদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের বাস্তব দখল, ঘরবাড়ি ও ফলদ বাগানের অবস্থানকে তিনি প্রতিবেদনে বিকৃত করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
স্থায়ীরা জানান, সার্ভেয়ার আতিকের বিরুদ্ধে লামা ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই নামজারি (মিউটেশন) আটকে রাখা, খতিয়ানের তথ্য গোপন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তাঁর এই লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার মো. আতিকুর রহমানের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আদালতের নির্দেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে কোনো পক্ষ নারাজি দিলে বিজ্ঞ আদালতই শুনানির মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।























