গফরগাঁওয়ে ৫৫ বছরেও পাকা হয়নি দুই শহীদের কবর, সরকারি সহায়তা নিয়েও পরিবারের আক্ষেপ
মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন দুই সহোদর। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের কবর এখনো পাকাকরণ করা হয়নি। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের শনিপাড়া গ্রামের শহীদ আলিম উদ্দিন সরকার ও তাঁর আপন ভাই শহীদ আমির উদ্দিন মাস্টারের কবরের এমন অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন স্বজনেরা।
স্থানীয় ইতিহাস ও পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শনিপাড়া গ্রামের একটি মসজিদ থেকে বের করে নিয়ে শহীদ আলিম উদ্দিন সরকার ও তাঁর ভাই শহীদ আমির উদ্দিন মাস্টারকে গুলি করে হত্যা করে। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁদের এই আত্মত্যাগ আজও গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
দুই শহীদের স্মৃতি ধরে রাখতে গ্রামে রয়েছে একটি স্মৃতিফলক। তবে তাঁদের কবর পাকাকরণ, স্মৃতিচিহ্নের যথাযথ সংরক্ষণ এবং পরিবারের প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে এখনো কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশায় রয়েছেন স্বজনেরা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধে দুই সহোদরের আত্মত্যাগের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের কবর পাকাকরণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার বিষয়টি যাচাই করে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর মতে, মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ শুধু তাঁদের পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
স্বাধীনতার এত বছর পরও দুই শহীদের কবর পাকাকরণ না হওয়া এবং সরকারি সহায়তা নিয়ে পরিবারের আক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা পরিবার ও এলাকাবাসীর।
স্থান: শনিপাড়া গ্রাম, ৩ নম্বর চরআলগী ইউনিয়ন, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।

























