জয়পুরহাটে পা দিয়ে লিখে মাস্টার্স,এখন বিচারক হওয়ার স্বপ্ন বিউটির
জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর অধ্যবসায় ও মেধার জোরে সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের মেয়ে বিউটি খাতুন। দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর (এলএলএম) ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর পরবর্তী স্বপ্ন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী জজ হিসেবে বিচারকের আসনে বসা।
বিউটি খাতুন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক বায়েজিদ হোসেন ও রহিমা খাতুন দম্পতির মেয়ে।
শৈশব থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পা দিয়ে লেখালেখি ও দৈনন্দিন কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলেন বিউটি। নানা প্রতিকূলতা ও মানুষের কটুকথা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছেন নিজের লক্ষ্যে। তাঁর এই অদম্য পথচলায় সাফল্যের পালক যুক্ত হয় ২০১৭ সালে। শিবপুর শ্যামপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি।
এরপর ২০১৯ সালে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। সেখান থেকে সফলতার সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করার পর এবার স্নাতকোত্তর (এলএলএম) ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।
বর্তমানে বিউটি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর স্বপ্ন, নিজের মেধা ও যোগ্যতায় সহকারী জজ হয়ে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
বিউটি খাতুন বলেন, “শারীরিক সীমাবদ্ধতা কিংবা মানুষের নেতিবাচক কথা কখনোই আমার মনোবল ভাঙতে পারেনি। আমি কারও করুণায় নয়, নিজের যোগ্যতায় বিচারক হতে চাই। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আমার স্বপ্ন।”
মেয়ের এমন অসাধারণ সাফল্যে গর্বিত বাবা বায়েজিদ হোসেন। অন্যদিকে বিউটির সাবেক শিক্ষক একরামুল ইসলাম বলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই যে মানুষের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, বিউটি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অর্জন শুধু পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা।
দুই হাত না থাকলেও স্বপ্ন পূরণে থেমে থাকেননি বিউটি। পা দিয়ে লিখে অর্জন করেছেন উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি ডিগ্রি। এবার তাঁর স্বপ্ন বিচারক হওয়ার। বিউটির এই অদম্য পথচলা প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি আর আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতাও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।


























