1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের পথে আরও এক ধাপ, অস্ত্রসহ ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৬

সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত করতে চলমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি দস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য র‍্যাব-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনায় র‍্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি জানান, সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধারের এ ঘটনা ঘটে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন সদস্য রয়েছেন।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও ৭টি ওয়াকিটকি।

র‍্যাব জানিয়েছে, সুন্দরবন ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দস্যুদের তৎপরতার কারণে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বনজীবীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতো। দস্যুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান এবং আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়ার ফলে অপরাধীদের একটি অংশ অস্ত্রের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবনের ভেতরে এখনও কোনো দস্যু বাহিনী সক্রিয় থাকলে তাদের দ্রুত অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণের পর তারা যাতে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও নজরদারি ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম মেনে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য সুন্দরবন আবার উন্মুক্ত হয়েছে। এর ঠিক আগে দস্যুদের বড় একটি অংশের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

র‍্যাব জানিয়েছে, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান যেমন চলবে, তেমনি অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদেরও আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হবে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বনজ সম্পদ ও উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় দস্যুদের তৎপরতা বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক দস্যুর আত্মসমর্পণ এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে সেই লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:২৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের পথে আরও এক ধাপ, অস্ত্রসহ ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

আপডেট সময় : ০৫:১৭:২৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬

সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত করতে চলমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি দস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য র‍্যাব-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনায় র‍্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি জানান, সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধারের এ ঘটনা ঘটে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন সদস্য রয়েছেন।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও ৭টি ওয়াকিটকি।

র‍্যাব জানিয়েছে, সুন্দরবন ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দস্যুদের তৎপরতার কারণে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বনজীবীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতো। দস্যুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান এবং আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়ার ফলে অপরাধীদের একটি অংশ অস্ত্রের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবনের ভেতরে এখনও কোনো দস্যু বাহিনী সক্রিয় থাকলে তাদের দ্রুত অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণের পর তারা যাতে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও নজরদারি ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম মেনে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য সুন্দরবন আবার উন্মুক্ত হয়েছে। এর ঠিক আগে দস্যুদের বড় একটি অংশের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

র‍্যাব জানিয়েছে, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান যেমন চলবে, তেমনি অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদেরও আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হবে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বনজ সম্পদ ও উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় দস্যুদের তৎপরতা বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক দস্যুর আত্মসমর্পণ এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে সেই লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।