সর্বজনীন পেনশনে ৫৫ বছরেই পেনশন, মিলবে টাকা তোলার সুযোগ
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আরও আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করেছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শর্তে কর্মসূচি থেকে বের হওয়ার সুযোগ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া এবং বর্তমান ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন চালুর প্রস্তাব।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মোট ১১টি আলোচ্যসূচি রাখা হয়েছে। পর্ষদের অনুমোদনের পর প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিম চালু রয়েছে—প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। তাঁদের জমা করা মোট অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এর মধ্যে সমতা স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে প্রবাস স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এ স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
পাঁচ বছর পর টাকা তোলার সুযোগ
বর্তমান নিয়মে কোনো স্কিমে যোগ দেওয়ার পর কর্মসূচি থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে চাঁদা চালিয়ে যেতে না পারলে জমা অর্থ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর কোনো গ্রাহক শারীরিক বা আর্থিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় তাঁর জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
স্বামী বা স্ত্রী পাবেন আজীবন পেনশন
পেনশনভোগী মারা গেলে তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
বর্তমান নিয়মে চাঁদাদাতা আজীবন পেনশন পেলেও তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে এ সুবিধা পান না। চাঁদাদাতা ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তাঁর নমিনি কেবল ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাকি সময়ের জন্য পেনশন পান।
৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন
বর্তমানে ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে পেনশন পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে পেনশন পাওয়ার বয়স ৫৫ বছর করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় পর্ষদ বৈঠকে ৬০ বছর বয়সে পৌঁছালে চাঁদাদাতার জমা অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
ইসলামি পেনশন ও স্বাস্থ্য বিমার প্রস্তাব
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ইসলামি ভার্সন চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সুদভিত্তিক ব্যবস্থায় থাকতে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য স্বাস্থ্য বিমা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে স্বাস্থ্য বিমা সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নিবন্ধনে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব
গ্রাহক নিবন্ধনে ব্যাংক, ডাক বিভাগ, মুঠোফোন আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ (এমএফএস) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে নিবন্ধনপ্রতি কমিশন ১৫ টাকা। এটি বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় রিজার্ভ তহবিল
দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি এবং মুনাফার হার পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মতে, পেনশন তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের তহবিল গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।



























