1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’-বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় চেয়ারম্যান শোকজ

ফরিদপুর জেলাপ্রতিনিধি: আব্দুস সালাম মোল্লা
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৪

অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’-বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লারকে (৫৫) কারণ দর্শানোর কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

‎
‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন স্বাক্ষরিত শোকজ চিঠি ওই ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।‎এতে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‎
‎বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউএনও দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শোকজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ২ নম্বর যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’ ধরনের উসকানিমূলক কথা বলতে দেখা গেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে।‎যা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪ (৪) (খ) ধারা অনুযায়ী পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ এবং অসদাচরণের শামিল। আইন অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, চিঠিতে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

‎
‎ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে। যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর বাজারে নিজ সমর্থকদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। বক্তব্যের ১০ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

‎
‎ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যেকোনো কিছু করতে হলে আমাদের না জানিয়ে করলে তার দায়ভার আপনাদের। কিন্তু আমাদের নেতৃত্বে কিছু হলে- দুইটা মার্ডার হোক বা পাঁচটা, সেই দায়ভার আমাদের। আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে থাকেন। যার যার অস্ত্র বানাতে হবে, আমাদের হুকুম ২৪ ঘণ্টা আপনাদের সঙ্গে থাকবে।’

‎
‎তিনি আরও বলেন, উজিরপুরবাসী যদি অন্তত ২০ মিনিট ঠেকিয়ে রাখতে পারেন, তবে পাশের ২০টি গ্রাম থেকে যত লোক লাগে আমি পাঠাব। এদিকে, বক্তব্যটির বিষয়ে অবস্থান জানতে গত বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

‎
‎তবে এর আগে নোটিশ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভিডিওতে তার বক্তব্য যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তা সঠিক নয়। সেটি মূলত আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক একটি সভা ছিল এবং বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজারের সঙ্গে চলমান বিরোধ মিটিয়ে স্থানীয়দের শান্ত থাকার নির্দেশই তিনি দিয়েছিলেন।

‎
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালথার যদুনন্দী ও বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সীমানাবর্তী ময়েনদিয়া বাজার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর জেরে অতীতেও বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
‎ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ২২ বছর প্রবাসে থাকার পর ২০২০ সালে দেশে ফেরেন এবং ২০২১ নভেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:২০ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’-বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় চেয়ারম্যান শোকজ

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:২০ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪

অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’-বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লারকে (৫৫) কারণ দর্শানোর কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

‎
‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন স্বাক্ষরিত শোকজ চিঠি ওই ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।‎এতে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‎
‎বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউএনও দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শোকজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ২ নম্বর যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’ ধরনের উসকানিমূলক কথা বলতে দেখা গেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে।‎যা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪ (৪) (খ) ধারা অনুযায়ী পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ এবং অসদাচরণের শামিল। আইন অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, চিঠিতে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

‎
‎ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে। যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর বাজারে নিজ সমর্থকদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। বক্তব্যের ১০ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

‎
‎ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যেকোনো কিছু করতে হলে আমাদের না জানিয়ে করলে তার দায়ভার আপনাদের। কিন্তু আমাদের নেতৃত্বে কিছু হলে- দুইটা মার্ডার হোক বা পাঁচটা, সেই দায়ভার আমাদের। আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে থাকেন। যার যার অস্ত্র বানাতে হবে, আমাদের হুকুম ২৪ ঘণ্টা আপনাদের সঙ্গে থাকবে।’

‎
‎তিনি আরও বলেন, উজিরপুরবাসী যদি অন্তত ২০ মিনিট ঠেকিয়ে রাখতে পারেন, তবে পাশের ২০টি গ্রাম থেকে যত লোক লাগে আমি পাঠাব। এদিকে, বক্তব্যটির বিষয়ে অবস্থান জানতে গত বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

‎
‎তবে এর আগে নোটিশ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভিডিওতে তার বক্তব্য যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তা সঠিক নয়। সেটি মূলত আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক একটি সভা ছিল এবং বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজারের সঙ্গে চলমান বিরোধ মিটিয়ে স্থানীয়দের শান্ত থাকার নির্দেশই তিনি দিয়েছিলেন।

‎
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালথার যদুনন্দী ও বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সীমানাবর্তী ময়েনদিয়া বাজার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর জেরে অতীতেও বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
‎ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ২২ বছর প্রবাসে থাকার পর ২০২০ সালে দেশে ফেরেন এবং ২০২১ নভেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে।