বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, মোহনগঞ্জে যুবক পলাতক
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে মো. রাকিব (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত মো. রাকিব উপজেলার ৫ নম্বর সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে। তিনি পৌর শহরের হাসপাতাল রোডে একজন পল্লী চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাকিবের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর প্রায় তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে ওই তরুণীর অন্যত্র বিয়ে হলেও রাকিব তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। পুনরায় সম্পর্ক না রাখলে আত্মহত্যার হুমকি দিলে বাধ্য হয়ে তরুণী আবার রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ জুন রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাকিব ওই তরুণীকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে আবার বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে পরবর্তীতে তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এরপরও রাকিব তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তরুণী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে রাকিব ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে তাঁর গর্ভপাত ঘটান। মেসেঞ্জারে তাঁদের কথোপকথনের সমস্ত প্রমাণ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও জানান তিনি।
সবশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই তরুণী রাকিবের কর্মস্থলে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রাকিব তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেন। ঘটনার পর থেকে রাকিব তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয় নিশ্চিত করে জানান, “অভিযোগটি প্রাথমিক তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

















