ধুনট থানা পুলিশের তৎপরতায় ৯৪ মোবাইল উদ্ধার, চোরচক্রের ৮ সদস্য আটক
বগুড়ার ধুনটে দিনের আলোয় দোকানের তালা কেটে ৯৪টি মোবাইল ফোন চুরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চুরি যাওয়া সব মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে ধুনট থানা পুলিশ। এ ঘটনায় চোরচক্রের আট সদস্যকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ধুনটের মাসুদ টেলিকমে এ চুরির ঘটনা ঘটে। দোকানের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা জানান, দোকানের তালা কেটে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর বিষয়টি ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মাদ রায়হান-এর তদারকিতে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেরপুর সার্কেল শামস-ই-তাবরীজ-এর সার্বিক সহযোগিতায় এবং ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, চোরচক্রের সদস্যরা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে করে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছে। পরে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সহযোগিতায় যমুনা সেতু পশ্চিম থানার টোল প্লাজায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় চুরি যাওয়া ৯৪টি মোবাইল ফোনসহ আটজনকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন—চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার আল আমিন (৩০), বাকলিয়া থানার আক্কাস আলী (৩৫), নরসিংদীর রায়পুরা থানার ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার ইয়াছিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনা থানার রবিউল ইসলাম (৩৩), কুমিল্লার মুরাদনগর থানার আলাউদ্দিন (২৫), চট্টগ্রামের লালমাই থানার ইসরাফিল রহমান (২৭) এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার হৃদয় (৩৪)।
পুলিশের দ্রুত তৎপরতা ও আন্তঃজেলা সমন্বয়ের ফলে চুরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৯৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং শেষে আটক আটজনকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।




















