গভীর রাতে মুখোশ পরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীর ছেলেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে গভীর রাতে এক রোগীর ছেলেকে মুখোশপরা কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালের লিফট থেকে নামার পর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের আল আমিন হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ৫-৬ জন মুখোশপরা ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
আল আমিন ও তার স্বজনদের অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জের ধরে একই গ্রামের ফরিদ মিয়া ও তার ভাইদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার ফরিদ মিয়ার নেতৃত্বে তার ভাইয়েরা আল আমিনের মা জাহানারা ও বোনের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন আল আমিন।
আল আমিনের দাবি, রাত ১টার দিকে ফরিদ মিয়ার শ্যালক বেড়াজালি গ্রামের নূরুল ইসলাম হাসপাতালে এসে তাকে হুমকি-ধমকি দেন। পরে মায়ের জন্য ওষুধ আনতে নিচে নামলে লিফট থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন মুখোশপরা ব্যক্তি তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তারা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রায় ২০ বছর আগে ফরিদ মিয়া ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে আল আমিনের নানীকে হত্যার মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় ফরিদ মিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলেও দাবি করেন তারা।
আল আমিনের বাবা আরজদ আলী বলেন, ‘আমার শাশুড়িকে আগে খুন করা হয়েছে। এখন আমার স্ত্রী ও সন্তানদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলে স্ত্রী ও মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকেই তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে আমরা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।’
এদিকে হাসপাতালের ভেতরে এমন ঘটনার সময় নিরাপত্তারক্ষী আনসার সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যদের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে। হাসপাতালের ভেতরে রোগীর স্বজনের ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়।’
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে অভিযুক্ত ফরিদ মিয়া ও নূরুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।























