1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৯

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, টেকসই আবাসন বলতে শুধু একটি ঘরকে বোঝায় না। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, ভালো সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শহর ও নগরগুলোতে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য বড় শহরের অবস্থাও প্রায় একই। এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শহরাঞ্চলে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সকলের জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার।’ এ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ, বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করাও সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো হলে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।

তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নকে শুধু রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক না রেখে প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়, বরং বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।

তিনি জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি আবাসন পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি ব্লকভিত্তিক আবাসন, এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের জন্য একটি বাস্তবতায় পরিণত হবে—ইনশাআল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:২০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
৯

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, টেকসই আবাসন বলতে শুধু একটি ঘরকে বোঝায় না। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, ভালো সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শহর ও নগরগুলোতে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য বড় শহরের অবস্থাও প্রায় একই। এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শহরাঞ্চলে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সকলের জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার।’ এ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ, বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করাও সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো হলে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।

তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নকে শুধু রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক না রেখে প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়, বরং বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।

তিনি জানান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি আবাসন পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি ব্লকভিত্তিক আবাসন, এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের জন্য একটি বাস্তবতায় পরিণত হবে—ইনশাআল্লাহ।