ভাঙা কালভার্টে বাঁশের সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ঝিনাইগাতীর কয়েক গ্রামের মানুষের
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভারুয়া-কুশাইকুড়া সড়কের একটি ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্ট দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ। যোগাযোগ সচল রাখতে স্থানীয়দের তৈরি বাঁশের সাঁকোটিও বর্তমানে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই সাঁকো পারাপার করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বন্যায় ওই এলাকার সড়ক ও কালভার্টের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে কোনোভাবে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের পাশাপাশি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবাহে সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভারুয়া-কুশাইকুড়া সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপজেলা সদরের দিকে যাতায়াত করেন। পণ্য পরিবহন ও কৃষিপণ্য বাজারজাতের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু কালভার্টটি ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বাড়লে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্ট পুনর্নির্মাণ ও সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও এটি নিরাপদ যোগাযোগের বিকল্প হতে পারে না। দ্রুত স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।
নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


























