1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করেছে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাওয়া জাপানি কনসোর্টিয়াম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একচেটিয়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন।

ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান চারটির নিরাপত্তা ছাড়পত্র চেয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে তালিকা জমা দিয়েছে জাপানি কনসোর্টিয়াম। ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এরপর নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং লাইসেন্স দেবে বেবিচক।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাজনিত, নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত বা অন্য কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হবে।

নতুন অপারেটর নিয়োগের ফলে তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে বিমানের পাশাপাশি আরেকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হাতেই থাকছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে কেন গুরুত্বপূর্ণ নতুন অপারেটর

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় রয়েছে উড়োজাহাজের সেবা কার্যক্রম, যাত্রী ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা, চেক-ইন, র‍্যাম্প অপারেশন এবং উড়োজাহাজের দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড নিশ্চিত করা। এসব কার্যক্রমের দক্ষতার ওপর সরাসরি নির্ভর করে যাত্রীসেবার মান, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা ও সামগ্রিক যাত্রী-অভিজ্ঞতা।

বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচন কেবল নতুন একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয় নয়। নির্মাণকাজ শেষে আন্তর্জাতিক মানের পরিচালনব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব, চেক-ইন কার্যক্রমের গতি, যাত্রীদের সহায়তা এবং ফ্লাইট বিপর্যয়ের সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা হবে সেবার মান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

বৈশ্বিক কার্যক্রমে এগিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান

বেবিচকের ছাড়পত্রের জন্য প্রস্তাবিত চার প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক কার্যক্রম, কর্মীসংখ্যা ও পরিচালন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। প্রাপ্ত তুলনামূলক তথ্যমতে, সুইসপোর্ট প্রায় ৪৪ থেকে ৪৯টি দেশে ৩১০টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার। বছরে প্রায় ৪০ লাখ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬২ লাখ টন কার্গো ব্যবস্থাপনা করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডানাটা ৩৫টি দেশে ১৪৬টি বিমানবন্দর বা স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি। বছরে ৮ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রায় ৩২ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করে প্রতিষ্ঠানটি।

তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং পাঁচটি দেশে ৬০টির বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৯ হাজার।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশনের ৬৫টি দেশে ৩৪৭টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। বছরে প্রায় ৫৩ লাখ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিস দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশিত এসব পরিসংখ্যান বিভিন্ন সময়ের হতে পারে। ফলে তুলনার ক্ষেত্রে তথ্যের হালনাগাদ অবস্থা ও পরিমাপের পদ্ধতি যাচাই করা জরুরি।

মেনজিসের সেবার মান নিয়ে অতীতে প্রশ্ন

বৈশ্বিক কার্যক্রমের বিস্তৃতি থাকলেও মেনজিস এভিয়েশনের সেবার মান নিয়ে অতীতে সমালোচনা হয়েছে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি সমালোচনার মুখে পড়ে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্কটসম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় কয়েক হাজার যাত্রীর লাগেজ আটকে পড়া, যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থতা এবং অভিযোগ যথাযথভাবে সমাধান না করার বিষয়গুলো সামনে আসে।

এ ছাড়া অনলাইন গ্রাহক পর্যালোচনা প্ল্যাটফর্ম ট্রাস্টপাইলটে মেনজিস এভিয়েশনের রেটিং ৫-এর মধ্যে ১ দশমিক ৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে কিছু যাত্রী কর্মীদের আচরণ, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং গ্রাহকসেবার মান নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে অনলাইন পর্যালোচনার ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সেবার মান চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

নিউজিল্যান্ডের প্রাথমিক শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমপিআই) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বায়োসিকিউরিটি আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ২০২৫ সালে মেনজিস এভিয়েশন লিমিটেডকে দেড় লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। অকল্যান্ড বিমানবন্দরে আমদানি করা পণ্য ব্যবস্থাপনার সময় ছয়টি চালান যথাযথভাবে মোড়কজাত না করা এবং পরিদর্শনকক্ষের স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত ঘাটতির বিষয়টি আদালতের রায়ে উঠে আসে।

অপারেটর নির্বাচনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জবাবদিহি জরুরি

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, কর্মীসংখ্যা কিংবা ব্যবসার পরিধি বিবেচনা করলেই হবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, লাগেজ সরবরাহের সময়, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড, যাত্রীসেবার মান এবং অনিয়ম বা বিপর্যয় মোকাবিলার সক্ষমতাও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। পাশাপাশি অতীতের কার্যক্রম ও সেবার মান যাচাই করা প্রয়োজন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, কর্মীসংখ্যা কিংবা অভিজ্ঞতা দেখলে হবে না। অতীতে তাদের সেবার মান কেমন ছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ডে কতটা দক্ষতা রয়েছে, সেগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বড় প্রতিষ্ঠান হলেই যে তারা সব জায়গায় সমান মানের সেবা দেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই অপারেটর নির্বাচনের পাশাপাশি সেবার মান পরিমাপের সুনির্দিষ্ট সূচক নির্ধারণ, নিয়মিত তদারকি এবং শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচন বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে প্রতিযোগিতা ও সেবার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত অপারেটর কতটা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে, তা নির্ভর করবে স্বচ্ছ নির্বাচনপ্রক্রিয়া, কার্যকর তদারকি এবং সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৫১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৫১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করেছে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাওয়া জাপানি কনসোর্টিয়াম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একচেটিয়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন।

ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান চারটির নিরাপত্তা ছাড়পত্র চেয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে তালিকা জমা দিয়েছে জাপানি কনসোর্টিয়াম। ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এরপর নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং লাইসেন্স দেবে বেবিচক।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাজনিত, নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত বা অন্য কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হবে।

নতুন অপারেটর নিয়োগের ফলে তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে বিমানের পাশাপাশি আরেকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হাতেই থাকছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে কেন গুরুত্বপূর্ণ নতুন অপারেটর

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় রয়েছে উড়োজাহাজের সেবা কার্যক্রম, যাত্রী ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা, চেক-ইন, র‍্যাম্প অপারেশন এবং উড়োজাহাজের দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড নিশ্চিত করা। এসব কার্যক্রমের দক্ষতার ওপর সরাসরি নির্ভর করে যাত্রীসেবার মান, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা ও সামগ্রিক যাত্রী-অভিজ্ঞতা।

বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচন কেবল নতুন একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয় নয়। নির্মাণকাজ শেষে আন্তর্জাতিক মানের পরিচালনব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব, চেক-ইন কার্যক্রমের গতি, যাত্রীদের সহায়তা এবং ফ্লাইট বিপর্যয়ের সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা হবে সেবার মান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

বৈশ্বিক কার্যক্রমে এগিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান

বেবিচকের ছাড়পত্রের জন্য প্রস্তাবিত চার প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক কার্যক্রম, কর্মীসংখ্যা ও পরিচালন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। প্রাপ্ত তুলনামূলক তথ্যমতে, সুইসপোর্ট প্রায় ৪৪ থেকে ৪৯টি দেশে ৩১০টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার। বছরে প্রায় ৪০ লাখ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬২ লাখ টন কার্গো ব্যবস্থাপনা করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডানাটা ৩৫টি দেশে ১৪৬টি বিমানবন্দর বা স্থাপনায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি। বছরে ৮ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রায় ৩২ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করে প্রতিষ্ঠানটি।

তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং পাঁচটি দেশে ৬০টির বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৯ হাজার।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশনের ৬৫টি দেশে ৩৪৭টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। বছরে প্রায় ৫৩ লাখ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিস দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশিত এসব পরিসংখ্যান বিভিন্ন সময়ের হতে পারে। ফলে তুলনার ক্ষেত্রে তথ্যের হালনাগাদ অবস্থা ও পরিমাপের পদ্ধতি যাচাই করা জরুরি।

মেনজিসের সেবার মান নিয়ে অতীতে প্রশ্ন

বৈশ্বিক কার্যক্রমের বিস্তৃতি থাকলেও মেনজিস এভিয়েশনের সেবার মান নিয়ে অতীতে সমালোচনা হয়েছে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি সমালোচনার মুখে পড়ে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্কটসম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় কয়েক হাজার যাত্রীর লাগেজ আটকে পড়া, যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থতা এবং অভিযোগ যথাযথভাবে সমাধান না করার বিষয়গুলো সামনে আসে।

এ ছাড়া অনলাইন গ্রাহক পর্যালোচনা প্ল্যাটফর্ম ট্রাস্টপাইলটে মেনজিস এভিয়েশনের রেটিং ৫-এর মধ্যে ১ দশমিক ৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে কিছু যাত্রী কর্মীদের আচরণ, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং গ্রাহকসেবার মান নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে অনলাইন পর্যালোচনার ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সেবার মান চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

নিউজিল্যান্ডের প্রাথমিক শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমপিআই) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বায়োসিকিউরিটি আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ২০২৫ সালে মেনজিস এভিয়েশন লিমিটেডকে দেড় লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। অকল্যান্ড বিমানবন্দরে আমদানি করা পণ্য ব্যবস্থাপনার সময় ছয়টি চালান যথাযথভাবে মোড়কজাত না করা এবং পরিদর্শনকক্ষের স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত ঘাটতির বিষয়টি আদালতের রায়ে উঠে আসে।

অপারেটর নির্বাচনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জবাবদিহি জরুরি

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, কর্মীসংখ্যা কিংবা ব্যবসার পরিধি বিবেচনা করলেই হবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, লাগেজ সরবরাহের সময়, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড, যাত্রীসেবার মান এবং অনিয়ম বা বিপর্যয় মোকাবিলার সক্ষমতাও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। পাশাপাশি অতীতের কার্যক্রম ও সেবার মান যাচাই করা প্রয়োজন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, কর্মীসংখ্যা কিংবা অভিজ্ঞতা দেখলে হবে না। অতীতে তাদের সেবার মান কেমন ছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ডে কতটা দক্ষতা রয়েছে, সেগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বড় প্রতিষ্ঠান হলেই যে তারা সব জায়গায় সমান মানের সেবা দেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তাই অপারেটর নির্বাচনের পাশাপাশি সেবার মান পরিমাপের সুনির্দিষ্ট সূচক নির্ধারণ, নিয়মিত তদারকি এবং শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচন বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে প্রতিযোগিতা ও সেবার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত অপারেটর কতটা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে, তা নির্ভর করবে স্বচ্ছ নির্বাচনপ্রক্রিয়া, কার্যকর তদারকি এবং সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর।