1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামার ফাইতং ইউনিয়নে ৩১ ইটভাটার অবৈধ চুল্লি

প্রতিনিধির নাম
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পার্বত্য লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের একটি সীমাবদ্ধ এরিয়ার মধ্যে ৩১টি ব্রিকফিল্ড চলমান রয়েছে।
৩০ বছর ধরে এসব ব্রিকফিল্ডে অপ্রতিরোধ্য কাঠ পোড়ানোর মহা উৎসব থামানো যাচ্ছে না। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে অভিযান করে ইটভাটার মালিকদের জরিমানা করতে দেখা যায়। তবে লামা বন বিভাগের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা লক্ষণীয়। মাসিক মাসোহারা তাদেরকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে রেখেছে।
এর মধ্যে ১৭টি ইটভাটায় প্রতিদিন হাজার হাজার টন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এসব কাঠের চাহিদা মেটানো হয় লামা উপজেলার পাহাড়-জঙ্গল থেকে।
এসব ব্রিকফিল্ডের একটিরও আইনগত অনুমোদন নেই বলে উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছেন। অবৈধ ব্রিকফিল্ডগুলো ভেঙে উচ্ছেদ করার জন্য মহান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ২০২৫ সালের শেষ দিকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন যৌথ বাহিনীর মাধ্যমেও ব্রিকফিল্ড উচ্ছেদ করতে পারে নাই।
তার আগে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে লামা উপজেলা প্রশাসন ও বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর মিলে অভিযান করে ৭টি ব্রিকফিল্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ওইসব ফিল্ড ভিন্ন নামে আবারও পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সক্রিয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে এসব ব্রিকফিল্ডে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মাটি। এর ফলে আশপাশের এলাকার পাহাড়গুলো নির্বিচারে কর্তন করা হচ্ছে। ইটভাটার পাশের অনেক পাহাড়ই ইতিমধ্যে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। পরিবেশ ধ্বংসকারীদের লাগামহীন কর্মকাণ্ডে ফাইতং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে মরুময়তা দেখা দিয়েছে। অব্যাহত পাহাড় কর্তন, পাহাড়ে গাছ না থাকার কারণে ঝিরি-ঝর্ণাগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। পরিবেশ সচেতন মহল এর জন্য প্রশাসনকে দায়ী করছেন।
তবে প্রশাসন বলছে, পরিবেশ রক্ষায় তাদের অভিযান অব্যাহত আছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাইতং ইউনিয়নটির ভূ-অবস্থান চকরিয়া ও লোহাগাড়ার সীমান্ত ঘেঁষে। এর ফলে সমতল জেলার বেশ কিছু অসাধু ব্যক্তি সিন্ডিকেট তৈরি করে পার্বত্য লামা উপজেলার অংশে ব্যাপক হারে ইটভাটা স্থাপন করে পরিবেশ ধ্বংসে মেতে উঠেছে। সিন্ডিকেটটি এত বেশি প্রভাবশালী যে, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা সে সরকারের নেতাদের ম্যানেজ করে নিতে সক্ষম হয়।
লামার পরিবেশ ধ্বংসকারী প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রধানরা রাজনৈতিক ছত্রছায়া পেয়ে থাকে। যার ফলে তাদের ক্ষমতার অবৈধ প্রয়োগ রোধ করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সেনাবাহিনী দিয়ে সহায়তা করতে হবে বলে মনে করেন সচেতন সমাজ।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, তিনি যোগদানের এক বছরের মধ্যে লামা প্রশাসন ব্রিকফিল্ডগুলোতে অসংখ্য অভিযান করেছেন। ৭টি ব্রিকফিল্ড ভেঙে দেওয়া হয়, অনেকগুলো মামলা, মোবাইল কোর্টে সাজা, মালামাল নষ্ট করা হয়েছে। ইউএনও মি. মঈন উদ্দিন আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে কোটি টাকার উপরে জরিমানা ধার্যপূর্বক আদায় করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান লামা উপজেলা প্রশাসক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

লামার ফাইতং ইউনিয়নে ৩১ ইটভাটার অবৈধ চুল্লি

আপডেট সময় : ০২:২৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

পার্বত্য লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের একটি সীমাবদ্ধ এরিয়ার মধ্যে ৩১টি ব্রিকফিল্ড চলমান রয়েছে।
৩০ বছর ধরে এসব ব্রিকফিল্ডে অপ্রতিরোধ্য কাঠ পোড়ানোর মহা উৎসব থামানো যাচ্ছে না। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে অভিযান করে ইটভাটার মালিকদের জরিমানা করতে দেখা যায়। তবে লামা বন বিভাগের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা লক্ষণীয়। মাসিক মাসোহারা তাদেরকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে রেখেছে।
এর মধ্যে ১৭টি ইটভাটায় প্রতিদিন হাজার হাজার টন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এসব কাঠের চাহিদা মেটানো হয় লামা উপজেলার পাহাড়-জঙ্গল থেকে।
এসব ব্রিকফিল্ডের একটিরও আইনগত অনুমোদন নেই বলে উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছেন। অবৈধ ব্রিকফিল্ডগুলো ভেঙে উচ্ছেদ করার জন্য মহান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ২০২৫ সালের শেষ দিকে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন যৌথ বাহিনীর মাধ্যমেও ব্রিকফিল্ড উচ্ছেদ করতে পারে নাই।
তার আগে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে লামা উপজেলা প্রশাসন ও বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর মিলে অভিযান করে ৭টি ব্রিকফিল্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ওইসব ফিল্ড ভিন্ন নামে আবারও পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সক্রিয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে এসব ব্রিকফিল্ডে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মাটি। এর ফলে আশপাশের এলাকার পাহাড়গুলো নির্বিচারে কর্তন করা হচ্ছে। ইটভাটার পাশের অনেক পাহাড়ই ইতিমধ্যে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। পরিবেশ ধ্বংসকারীদের লাগামহীন কর্মকাণ্ডে ফাইতং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে মরুময়তা দেখা দিয়েছে। অব্যাহত পাহাড় কর্তন, পাহাড়ে গাছ না থাকার কারণে ঝিরি-ঝর্ণাগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। পরিবেশ সচেতন মহল এর জন্য প্রশাসনকে দায়ী করছেন।
তবে প্রশাসন বলছে, পরিবেশ রক্ষায় তাদের অভিযান অব্যাহত আছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাইতং ইউনিয়নটির ভূ-অবস্থান চকরিয়া ও লোহাগাড়ার সীমান্ত ঘেঁষে। এর ফলে সমতল জেলার বেশ কিছু অসাধু ব্যক্তি সিন্ডিকেট তৈরি করে পার্বত্য লামা উপজেলার অংশে ব্যাপক হারে ইটভাটা স্থাপন করে পরিবেশ ধ্বংসে মেতে উঠেছে। সিন্ডিকেটটি এত বেশি প্রভাবশালী যে, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা সে সরকারের নেতাদের ম্যানেজ করে নিতে সক্ষম হয়।
লামার পরিবেশ ধ্বংসকারী প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রধানরা রাজনৈতিক ছত্রছায়া পেয়ে থাকে। যার ফলে তাদের ক্ষমতার অবৈধ প্রয়োগ রোধ করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সেনাবাহিনী দিয়ে সহায়তা করতে হবে বলে মনে করেন সচেতন সমাজ।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, তিনি যোগদানের এক বছরের মধ্যে লামা প্রশাসন ব্রিকফিল্ডগুলোতে অসংখ্য অভিযান করেছেন। ৭টি ব্রিকফিল্ড ভেঙে দেওয়া হয়, অনেকগুলো মামলা, মোবাইল কোর্টে সাজা, মালামাল নষ্ট করা হয়েছে। ইউএনও মি. মঈন উদ্দিন আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে কোটি টাকার উপরে জরিমানা ধার্যপূর্বক আদায় করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান লামা উপজেলা প্রশাসক।