1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য নয়: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের নয়, বরং সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের দেশ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর স্বামীবাগে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) মন্দিরে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহাউৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতিতে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে না। সব ধর্মের মানুষের সম-অধিকার, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে ধর্ম নিয়ে বিভাজন তৈরির নানা চেষ্টা হলেও বাংলাদেশের মানুষ সম্প্রীতির পক্ষেই রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে দুর্বল করতে অতীতে বিভিন্ন অপশক্তি চেষ্টা করেছে এবং এখনও বিচ্ছিন্নভাবে সেই অপচেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন এবং বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং চার্চের ধর্মযাজকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি এসব উদ্যোগকে ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিএনপি কোনো ধর্মীয় বিভাজনে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ এবং সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।

তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে শ্রী সত্যরঞ্জন ধরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি শ্রী গুরুকুল ভি. কে. এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মকবুল হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য নয়: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০২:০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের নয়, বরং সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের দেশ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর স্বামীবাগে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) মন্দিরে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহাউৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতিতে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে না। সব ধর্মের মানুষের সম-অধিকার, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে ধর্ম নিয়ে বিভাজন তৈরির নানা চেষ্টা হলেও বাংলাদেশের মানুষ সম্প্রীতির পক্ষেই রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে দুর্বল করতে অতীতে বিভিন্ন অপশক্তি চেষ্টা করেছে এবং এখনও বিচ্ছিন্নভাবে সেই অপচেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন এবং বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং চার্চের ধর্মযাজকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি এসব উদ্যোগকে ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিএনপি কোনো ধর্মীয় বিভাজনে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ এবং সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।

তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে শ্রী সত্যরঞ্জন ধরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি শ্রী গুরুকুল ভি. কে. এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মকবুল হোসেন।