1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, হালিমা খাতুনের পাশে দাঁড়াবে কে?

আল আমিন, ঝিনাইগাতী (শেরপুর):
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৫

জীবনের শুরু থেকেই অভাবের সঙ্গে লড়াই। বাবাকে হারানোর পর বেড়েছে অসহায়ত্ব। বিয়ের পর স্বামীর সংসারেও শান্তি মেলেনি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের হালিমা খাতুনের। নিজের স্থায়ী আশ্রয় নেই, নেই পর্যাপ্ত আয়ের ব্যবস্থা। অসহায় মা ও ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিনই তাঁকে লড়তে হচ্ছে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে।

হালিমা খাতুন গোমড়া গ্রামের মরহুম হযরত আলীর মেয়ে। তাঁর বাবা পেশায় দিনমজুর ছিলেন। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁদের ছোট সংসার চলত সীমিত আয়ে। পরিবারের একমাত্র সম্বল ছিল সরকারি ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি ঘর। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটির আর্থিক সংকট আরও গভীর হয়। তাঁর ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। অন্যদিকে, হালিমার মা রাশেদা বেগম এখনো অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।

বিয়ের পর স্বামীর সংসারে সুখে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন হালিমা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতন, অবহেলা ও যৌতুকের দাবির কারণে সংসারজীবনে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দুই সন্তানের মা হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত স্বামীর সংসার থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে তাঁর জীবনে নেমে আসে আরও কঠিন পরিস্থিতি। প্রায় দুই বছর আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় শিশুটিকে দত্তক দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। অভাবের চাপে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া একজন মায়ের জন্য কতটা বেদনাদায়ক, তা সহজেই অনুমেয়।

বর্তমানে হালিমা খাতুন তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে হাসিকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজের স্থায়ী আশ্রয় না থাকায় মায়ের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁকে। রাশেদা বেগমের দিনমজুরির সামান্য আয় দিয়ে নিজের পাশাপাশি মেয়ে ও নাতনির ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অভাবের কারণে তাঁদের নিত্যদিনের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হালিমার জীবনের এই পরিস্থিতি কেবল একটি পরিবারের আর্থিক সংকটের চিত্র নয়; এটি অসহায় নারীদের নিরাপত্তা, আশ্রয় ও সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে সন্তানদের নিয়ে সংকটে থাকা নারীদের জন্য সরকারি সহায়তা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা কতটা জরুরি, তাঁর পরিস্থিতি সেই প্রশ্নই তুলে ধরছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে হালিমা খাতুন নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পেতে পারেন। তাঁর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপযুক্ত সহায়তা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং মেয়ের লালন-পালন ও শিক্ষার নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

হালিমা খাতুনের জীবনে স্বস্তি ফিরবে কবে—এ প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অভাব ও অনিশ্চয়তার এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে তিনি কি মেয়েকে নিয়ে নিরাপদ জীবন গড়তে পারবেন? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে হয়তো তাঁর জীবনে ফিরতে পারে আশার আলো।

হালিমা খাতুনের মতো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। মানবিক সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগই পারে তাঁদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে।

বার্তাপ্রেরক: আল আমিন, ঝিনাইগাতী, শেরপুর
তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:১৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, হালিমা খাতুনের পাশে দাঁড়াবে কে?

আপডেট সময় : ০৮:২৩:১৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
২৫

জীবনের শুরু থেকেই অভাবের সঙ্গে লড়াই। বাবাকে হারানোর পর বেড়েছে অসহায়ত্ব। বিয়ের পর স্বামীর সংসারেও শান্তি মেলেনি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের হালিমা খাতুনের। নিজের স্থায়ী আশ্রয় নেই, নেই পর্যাপ্ত আয়ের ব্যবস্থা। অসহায় মা ও ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিনই তাঁকে লড়তে হচ্ছে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে।

হালিমা খাতুন গোমড়া গ্রামের মরহুম হযরত আলীর মেয়ে। তাঁর বাবা পেশায় দিনমজুর ছিলেন। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁদের ছোট সংসার চলত সীমিত আয়ে। পরিবারের একমাত্র সম্বল ছিল সরকারি ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি ঘর। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটির আর্থিক সংকট আরও গভীর হয়। তাঁর ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। অন্যদিকে, হালিমার মা রাশেদা বেগম এখনো অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।

বিয়ের পর স্বামীর সংসারে সুখে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন হালিমা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতন, অবহেলা ও যৌতুকের দাবির কারণে সংসারজীবনে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দুই সন্তানের মা হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত স্বামীর সংসার থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে তাঁর জীবনে নেমে আসে আরও কঠিন পরিস্থিতি। প্রায় দুই বছর আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় শিশুটিকে দত্তক দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। অভাবের চাপে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া একজন মায়ের জন্য কতটা বেদনাদায়ক, তা সহজেই অনুমেয়।

বর্তমানে হালিমা খাতুন তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে হাসিকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজের স্থায়ী আশ্রয় না থাকায় মায়ের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁকে। রাশেদা বেগমের দিনমজুরির সামান্য আয় দিয়ে নিজের পাশাপাশি মেয়ে ও নাতনির ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অভাবের কারণে তাঁদের নিত্যদিনের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হালিমার জীবনের এই পরিস্থিতি কেবল একটি পরিবারের আর্থিক সংকটের চিত্র নয়; এটি অসহায় নারীদের নিরাপত্তা, আশ্রয় ও সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে সন্তানদের নিয়ে সংকটে থাকা নারীদের জন্য সরকারি সহায়তা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা কতটা জরুরি, তাঁর পরিস্থিতি সেই প্রশ্নই তুলে ধরছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে হালিমা খাতুন নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পেতে পারেন। তাঁর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপযুক্ত সহায়তা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং মেয়ের লালন-পালন ও শিক্ষার নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

হালিমা খাতুনের জীবনে স্বস্তি ফিরবে কবে—এ প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অভাব ও অনিশ্চয়তার এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে তিনি কি মেয়েকে নিয়ে নিরাপদ জীবন গড়তে পারবেন? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে হয়তো তাঁর জীবনে ফিরতে পারে আশার আলো।

হালিমা খাতুনের মতো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। মানবিক সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগই পারে তাঁদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে।

বার্তাপ্রেরক: আল আমিন, ঝিনাইগাতী, শেরপুর
তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬