1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বোদা ভূমি অফিস: ৩ কর্মচারীর ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, বোদা(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৭

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া ভূমিসেবা পাওয়া কঠিন—এমন অভিযোগ উঠেছে। নামজারিসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এরই মধ্যে ওই ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগসংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু ও অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দৃশ্য থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েবের বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, জমির নামজারির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনায় পাঁচ হাজার টাকা বা তার বেশি অর্থ দাবি করেন সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। অভিযোগ অনুযায়ী, এ অর্থ সরাসরি গ্রহণ না করে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে নেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, নামজারির বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এক হাজার টাকা করে নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। এতে জমির মালিক ও সেবাপ্রার্থীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সেবা পেতে অনেকেই অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু সোয়েব বলেন, “আমি সেখানে সপ্তাহে দু-এক দিন যাই।

তারা আরো বলেন, ভূমি অফিসগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। অফিসিয়াল নিয়মে কাজ করতে গেলে নানা অজুহাতে মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা বা ‘ঘুষের চুক্তি’ করলে সেই কাজই অল্প সময়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ মদদেই এই দালালরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন সেবাগ্রহীতারা।

এসিল্যান্ড যেসব কাগজপত্র বাতিল করেন বা যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, সেসব কাগজপত্র দেখে আমি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিই। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কেউ কারও কাছ থেকে টাকা নেয়, তাহলে সেটা তার বিষয়।”

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের কিছু ভিডিও ও ছবি দেখেছি। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যতটুকু বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা অবশ্যই নেওয়া হবে।

এদিকে ভিডিও ফাঁসের পর থেকে বোদা উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই তিন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করে আসছেন। এদের পেছনে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে বোদা ভূমি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৬ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বোদা ভূমি অফিস: ৩ কর্মচারীর ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৬ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
৭

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া ভূমিসেবা পাওয়া কঠিন—এমন অভিযোগ উঠেছে। নামজারিসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এরই মধ্যে ওই ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগসংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু ও অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দৃশ্য থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েবের বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, জমির নামজারির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনায় পাঁচ হাজার টাকা বা তার বেশি অর্থ দাবি করেন সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। অভিযোগ অনুযায়ী, এ অর্থ সরাসরি গ্রহণ না করে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে নেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, নামজারির বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এক হাজার টাকা করে নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। এতে জমির মালিক ও সেবাপ্রার্থীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সেবা পেতে অনেকেই অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু সোয়েব বলেন, “আমি সেখানে সপ্তাহে দু-এক দিন যাই।

তারা আরো বলেন, ভূমি অফিসগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। অফিসিয়াল নিয়মে কাজ করতে গেলে নানা অজুহাতে মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা বা ‘ঘুষের চুক্তি’ করলে সেই কাজই অল্প সময়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ মদদেই এই দালালরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন সেবাগ্রহীতারা।

এসিল্যান্ড যেসব কাগজপত্র বাতিল করেন বা যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, সেসব কাগজপত্র দেখে আমি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিই। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কেউ কারও কাছ থেকে টাকা নেয়, তাহলে সেটা তার বিষয়।”

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের কিছু ভিডিও ও ছবি দেখেছি। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যতটুকু বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা অবশ্যই নেওয়া হবে।

এদিকে ভিডিও ফাঁসের পর থেকে বোদা উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই তিন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করে আসছেন। এদের পেছনে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে বোদা ভূমি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা হোক।