ঈদগাঁওয়ে বেপরোয়া বালু উত্তোলনে প্রশাসনের হানা, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ড্রেজার জব্দ
নাসি খালে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান; মালিকানা অস্বীকার অভিযুক্তের।
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঈদগাঁও বাসস্টেশনের ব্রিকফিল্ডসংলগ্ন নাসি খালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নাসি খালে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মেসার্স মিতু আনু মিয়া সিকদারের ছেলে হুমায়ুন করিম সিকদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় হুমায়ুন করিম সিকদার দাবি করেন, জব্দ করা ড্রেজার মেশিনটি তাঁর নয়।
স্থানীয়দের মতে, খাল ও নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙন, তীরবর্তী বসতভিটা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শুধু জরিমানা নয়, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, অর্থের জোগানদাতা এবং ড্রেজার মেশিনের প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অভিযানকালে ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এখন প্রশ্ন—৫০ হাজার টাকা জরিমানার পরই কি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে, নাকি এর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত মালিক ও পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে?




















