1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিলমারী হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ, এক মাস পর হাতে মিলল কাচের দুই টুকরো

কুড়িগ্রাম চিলমারী প্রতিনিধি : নুর আমিন
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৯

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবহেলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাইদার মিয়া নামে এক ব্যক্তি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে ভাঙা কাচের আঘাতে তাঁর বাম হাত জখম হয়। অভিযোগ, ক্ষতস্থানে সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও হাতের ভেতরে রয়ে যায় কাচের টুকরো। এক মাসের বেশি সময় যন্ত্রণার পর এক্স-রেতে ধরা পড়ে কাচের দুটি টুকরো। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাইদার মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর বাম হাতের ক্ষতস্থানে সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও ভেতরে থাকা কাচের টুকরো শনাক্ত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ব্যথা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাইদার মিয়া উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন। অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন। সম্প্রতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে গিয়ে ঘরের ভেতরে থাকা ভাঙা কাচের ওপর আঘাত পান তিনি। এতে তাঁর বাম হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সাইদার মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে শয্যা ও জায়গা খালি না থাকার কথা বলে তাঁকে ভর্তি করা হয়নি। ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে হাতের ভেতরে কাচের টুকরো রয়ে গেছে কি না, তা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়নি।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাতের ব্যথা ও যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটান তিনি। পরে এক্স-রে করালে হাতের ভেতরে কাচের দুটি টুকরোর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এরপর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়।

সাইদার মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যাওয়ার পর ঘরের ভেতরে থাকা কাচের ওপর আঘাত পাই। স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে হাতের ভেতরে কাচ রেখেই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে এক্স-রে করে দুটি কাচের টুকরো পাওয়া যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো বের করা হয়েছে।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “এখানে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়, নাকি মানুষকে মেরে ফেলা হয়? কোনো রোগীকেই ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। এমন অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।”

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও। চিলমারী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম বলেন, সাইদার মিয়া অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ড্রেসিং ও এক্স-রে করা হলে তাঁকে দীর্ঘদিন এমন যন্ত্রণা ভোগ করতে হতো না বলে তিনি মনে করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য স্যরি ভাই। রোগীকে বলেন চিকিৎসা করাতে। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।”

হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দুঃখ প্রকাশ ও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসের পরও স্থানীয়দের মধ্যে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন দরিদ্র রোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:৪০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

চিলমারী হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ, এক মাস পর হাতে মিলল কাচের দুই টুকরো

আপডেট সময় : ০২:২৩:৪০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
৯

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবহেলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাইদার মিয়া নামে এক ব্যক্তি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে ভাঙা কাচের আঘাতে তাঁর বাম হাত জখম হয়। অভিযোগ, ক্ষতস্থানে সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও হাতের ভেতরে রয়ে যায় কাচের টুকরো। এক মাসের বেশি সময় যন্ত্রণার পর এক্স-রেতে ধরা পড়ে কাচের দুটি টুকরো। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাইদার মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর বাম হাতের ক্ষতস্থানে সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও ভেতরে থাকা কাচের টুকরো শনাক্ত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ব্যথা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাইদার মিয়া উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন। অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন। সম্প্রতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে গিয়ে ঘরের ভেতরে থাকা ভাঙা কাচের ওপর আঘাত পান তিনি। এতে তাঁর বাম হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সাইদার মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে শয্যা ও জায়গা খালি না থাকার কথা বলে তাঁকে ভর্তি করা হয়নি। ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে হাতের ভেতরে কাচের টুকরো রয়ে গেছে কি না, তা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়নি।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাতের ব্যথা ও যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটান তিনি। পরে এক্স-রে করালে হাতের ভেতরে কাচের দুটি টুকরোর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এরপর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়।

সাইদার মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যাওয়ার পর ঘরের ভেতরে থাকা কাচের ওপর আঘাত পাই। স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে হাতের ভেতরে কাচ রেখেই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে এক্স-রে করে দুটি কাচের টুকরো পাওয়া যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো বের করা হয়েছে।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “এখানে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়, নাকি মানুষকে মেরে ফেলা হয়? কোনো রোগীকেই ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। এমন অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।”

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও। চিলমারী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম বলেন, সাইদার মিয়া অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ড্রেসিং ও এক্স-রে করা হলে তাঁকে দীর্ঘদিন এমন যন্ত্রণা ভোগ করতে হতো না বলে তিনি মনে করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য স্যরি ভাই। রোগীকে বলেন চিকিৎসা করাতে। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।”

হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দুঃখ প্রকাশ ও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসের পরও স্থানীয়দের মধ্যে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন দরিদ্র রোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।