1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. motalebsenbag1@gmail.com : Md.Abdul Motaleb :
  3. vision3zero@gmail.com : Shahidul islam sharif :
  4. zonebd62@gmail.com : staffreporter202527 :
ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাকাশ গবেষণায় বড় সাফল্য ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সব বাধা আর যুদ্ধ পরিস্থিতি মাড়িয়ে মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক বড় সাফল্য পাচ্ছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনকে অবজ্ঞা করে দেশটি এবার কক্ষপথে পাঠাচ্ছে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘পার্স-টু’। একইসাথে চলতি বছরের মধ্যেই মহাকাশে স্থাপন করা হচ্ছে ‘শহীদ সোলেইমানি’ স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন বা কৃত্রিম উপগ্রহের জোট।

ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, দেশের মহাকাশ খাতে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে এবং শিগগিরই উন্নত ‘পার্স-২’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। একই সঙ্গে বছরের শেষ নাগাদ ‘শহীদ সোলেইমানি’ স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

বুধবার ইরানিয়ান স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি দেশের মহাকাশ খাতের অগ্রগতিকে বর্তমান প্রশাসনের একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে ইরানিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রধান হাসান সালারিয়েহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রশাসন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মহাকাশ খাত বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি কৌশলগত। এই খাত স্মার্ট কৃষি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, কঠিন পরিস্থিতি ও যুদ্ধকালীন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের মহাকাশ অবকাঠামোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তার ভাষায়, “কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশের মহাকাশ কার্যক্রম চালু রাখা এই খাতে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের ফল।”

মন্ত্রী জানান, ‘পার্স-২’ স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে স্থাপনের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি একটি উন্নত, দেশীয়ভাবে নির্মিত উচ্চ-নির্ভুল ইমেজিং স্যাটেলাইট, যা পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, রিমোট সেন্সিং এবং পরিবেশগত মনিটরিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ-পরবর্তী সময়ে মহাকাশ খাত পুনর্গঠন ও নতুন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, “বর্তমান সুযোগ ও পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে মহাকাশ শিল্পের পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।”

এদিকে ইরানিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রধান হাসান সালারিয়েহ জানিয়েছেন, মহাকাশ প্রকল্পগুলো পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এমন দাবিকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, মহাকাশ প্রকল্পসমূহ বর্তমানে দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ‘রমজান যুদ্ধ’ চলাকালীন ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা শিল্পের কার্যক্রম থামাতে পারেনি।

সালারিয়েহ আরও বলেন, ইরানের মহাকাশ অবকাঠামো বিকেন্দ্রীকৃত হওয়ায় একটি কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আঘাত হানলেও পুরো ব্যবস্থাকে অচল করা সম্ভব নয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, তথ্য গ্রহণ এবং ইমেজিং সেবা যুদ্ধকালেও সচল রয়েছে।

সালারিয়েহ নিশ্চিত করেন যে, বড় জাতীয় মহাকাশ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে এবং `শহীদ সোলাইমানি’ স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন শিগগিরই উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত হবে। তার ভাষায়, এটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৪০৫ হিজরি-শামসি বছরের মধ্যে (যা ২০ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত চলবে) সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধকালীন কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু প্রক্রিয়া সামান্য ধীর হতে পারে, তবে কার্যক্রম থেমে যায়নি এবং মহাকাশ শিল্পে কোনও স্থবিরতা সৃষ্টি হয়নি। সূত্র: প্রেসটিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

মহাকাশ গবেষণায় বড় সাফল্য ইরানের

আপডেট সময় : ০৬:৫১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সব বাধা আর যুদ্ধ পরিস্থিতি মাড়িয়ে মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক বড় সাফল্য পাচ্ছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনকে অবজ্ঞা করে দেশটি এবার কক্ষপথে পাঠাচ্ছে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘পার্স-টু’। একইসাথে চলতি বছরের মধ্যেই মহাকাশে স্থাপন করা হচ্ছে ‘শহীদ সোলেইমানি’ স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন বা কৃত্রিম উপগ্রহের জোট।

ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, দেশের মহাকাশ খাতে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে এবং শিগগিরই উন্নত ‘পার্স-২’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। একই সঙ্গে বছরের শেষ নাগাদ ‘শহীদ সোলেইমানি’ স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

বুধবার ইরানিয়ান স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি দেশের মহাকাশ খাতের অগ্রগতিকে বর্তমান প্রশাসনের একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে ইরানিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রধান হাসান সালারিয়েহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রশাসন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মহাকাশ খাত বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি কৌশলগত। এই খাত স্মার্ট কৃষি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, কঠিন পরিস্থিতি ও যুদ্ধকালীন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের মহাকাশ অবকাঠামোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তার ভাষায়, “কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশের মহাকাশ কার্যক্রম চালু রাখা এই খাতে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের ফল।”

মন্ত্রী জানান, ‘পার্স-২’ স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে স্থাপনের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি একটি উন্নত, দেশীয়ভাবে নির্মিত উচ্চ-নির্ভুল ইমেজিং স্যাটেলাইট, যা পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, রিমোট সেন্সিং এবং পরিবেশগত মনিটরিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ-পরবর্তী সময়ে মহাকাশ খাত পুনর্গঠন ও নতুন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, “বর্তমান সুযোগ ও পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে মহাকাশ শিল্পের পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।”

এদিকে ইরানিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রধান হাসান সালারিয়েহ জানিয়েছেন, মহাকাশ প্রকল্পগুলো পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- এমন দাবিকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, মহাকাশ প্রকল্পসমূহ বর্তমানে দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ‘রমজান যুদ্ধ’ চলাকালীন ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা শিল্পের কার্যক্রম থামাতে পারেনি।

সালারিয়েহ আরও বলেন, ইরানের মহাকাশ অবকাঠামো বিকেন্দ্রীকৃত হওয়ায় একটি কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আঘাত হানলেও পুরো ব্যবস্থাকে অচল করা সম্ভব নয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, তথ্য গ্রহণ এবং ইমেজিং সেবা যুদ্ধকালেও সচল রয়েছে।

সালারিয়েহ নিশ্চিত করেন যে, বড় জাতীয় মহাকাশ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে এবং `শহীদ সোলাইমানি’ স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন শিগগিরই উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত হবে। তার ভাষায়, এটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৪০৫ হিজরি-শামসি বছরের মধ্যে (যা ২০ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত চলবে) সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধকালীন কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু প্রক্রিয়া সামান্য ধীর হতে পারে, তবে কার্যক্রম থেমে যায়নি এবং মহাকাশ শিল্পে কোনও স্থবিরতা সৃষ্টি হয়নি। সূত্র: প্রেসটিভি