বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। একই সঙ্গে এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আংশিক শিথিল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ কমেছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৭ দশমিক ৬৩ ডলারে নেমে এসেছে। মাসিক হিসাবে ব্রেন্টের দাম কমেছে প্রায় ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) ক্রুডের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত এক মাসে এ তেলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও জ্বালানি পণ্যের মধ্যে গ্যাসোলিনের বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে গ্যালনপ্রতি ২ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। তবে মাসিক হিসাবে গ্যাসোলিনের দাম এখনও ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কম রয়েছে।
এদিকে, এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কিছুটা কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্যাসের দাম শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ কমে প্রতি এমএমবিটিইউ ৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে এসেছে। তবে মাসের ব্যবধানে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য এখনও ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উন্নতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাস পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উৎপাদনকারী দেশগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলোতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

























