1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিয়েভে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ভয়াবহ এ হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৩০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে এ হামলা চালানো হয় বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তাইমুর তিকাচেঙ্কো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে কিয়েভে রাশিয়ার চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। বৃহস্পতিবার রাতভর চলে তল্লাশি কার্যক্রম। তাইমুর তিকাচেঙ্কো জানান, দিনিপ্রো নদীর তীরবর্তী একটি আবাসিক এলাকার বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ভবনের আট বাসিন্দা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

টেলিগ্রামে তিনি বলেন, “ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো না পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে।”

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তিনি দাবি করেন, এ হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণের তুলনায় বেশি উচ্চতায় উড়েছিল, ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি।

হামলায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রসের ইউক্রেন শাখার একটি ত্রাণসামগ্রীর গুদামও ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হামলায় ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধ্বস্ত গুদামঘরের ছবিও প্রকাশ করেছে রেড ক্রস।

হামলার সময় কিয়েভে অবস্থান করছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউক্রেনবিষয়ক দূত কাতারিনা মাথেরনোভা। তিনি এক বার্তায় বলেন, “রাশিয়া কিয়েভের ওপর যেন নরক নামিয়ে এনেছে।”

কিয়েভের বাসিন্দা ইরিয়ানা প্লেখোভা ফেসবুকে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্টের ছবি প্রকাশ করে লেখেন, “আমাদের বাসায় আগুন লেগেছিল। আমি জরুরি সেবায় ফোন করছিলাম, আর আমার স্বামী ওলেগ বাসিন্দাদের নিরাপদে বের হতে সাহায্য করছিল। এখন আমাদের আর কোনো অ্যাপার্টমেন্ট নেই।”

হামলার পর শুক্রবার রাজধানী কিয়েভে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। তিনি জানান, এ হামলায় প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ ও আশপাশের সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।

রাশিয়ার দাবি, গত সপ্তাহে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের ব্যাপক হামলা ছিল তারই জবাব।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

কিয়েভে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৭

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ভয়াবহ এ হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৩০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে এ হামলা চালানো হয় বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তাইমুর তিকাচেঙ্কো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে কিয়েভে রাশিয়ার চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। বৃহস্পতিবার রাতভর চলে তল্লাশি কার্যক্রম। তাইমুর তিকাচেঙ্কো জানান, দিনিপ্রো নদীর তীরবর্তী একটি আবাসিক এলাকার বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ভবনের আট বাসিন্দা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

টেলিগ্রামে তিনি বলেন, “ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো না পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে।”

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তিনি দাবি করেন, এ হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণের তুলনায় বেশি উচ্চতায় উড়েছিল, ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি।

হামলায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রসের ইউক্রেন শাখার একটি ত্রাণসামগ্রীর গুদামও ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হামলায় ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধ্বস্ত গুদামঘরের ছবিও প্রকাশ করেছে রেড ক্রস।

হামলার সময় কিয়েভে অবস্থান করছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউক্রেনবিষয়ক দূত কাতারিনা মাথেরনোভা। তিনি এক বার্তায় বলেন, “রাশিয়া কিয়েভের ওপর যেন নরক নামিয়ে এনেছে।”

কিয়েভের বাসিন্দা ইরিয়ানা প্লেখোভা ফেসবুকে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্টের ছবি প্রকাশ করে লেখেন, “আমাদের বাসায় আগুন লেগেছিল। আমি জরুরি সেবায় ফোন করছিলাম, আর আমার স্বামী ওলেগ বাসিন্দাদের নিরাপদে বের হতে সাহায্য করছিল। এখন আমাদের আর কোনো অ্যাপার্টমেন্ট নেই।”

হামলার পর শুক্রবার রাজধানী কিয়েভে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। তিনি জানান, এ হামলায় প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ ও আশপাশের সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।

রাশিয়ার দাবি, গত সপ্তাহে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের ব্যাপক হামলা ছিল তারই জবাব।

সূত্র: রয়টার্স