হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে যৌথ শুল্কের পরিকল্পনা ইরান-ওমানের
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যৌথভাবে ‘সেবা মাশুল’ বা টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও দেশ দুটি এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। একজন ইরানি কর্মকর্তা ও চারজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার একটি চুক্তিতে ৬০ দিনের আলোচনাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও মাশুলমুক্ত চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ইরান ও ওমানকে একটি যৌথ কাঠামো তৈরির বিষয়েও সম্মত হতে বলা হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সেই পরিকল্পনার আওতায় এই শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওমান চায় শুল্ক পরিশোধের বিষয়টি স্বেচ্ছাসেবী বা ঐচ্ছিক থাকুক। তবে ইরান এটিকে বাধ্যতামূলক করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মাস্কাটের মতে, প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হয়, তা বহনের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালির ব্যবস্থাপনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হলেও তেহরান একতরফাভাবে এই শুল্ক আরোপের পথে এগোতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি এড়াতে ওমান একটি সমঝোতামূলক বিকল্প খুঁজছে।
এদিকে সম্ভাব্য এই উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে যৌথভাবে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিলে ওমানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। তার দাবি, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এটি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত; কোনো রাষ্ট্র এর ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন কর্মকর্তাদের তৎপরতা বাড়ে। পরে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে ওমানি কূটনীতিকরা হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেই বলে আশ্বস্ত করেন।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, মিডল ইস্ট আই।





















