1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাহরাইনে মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা’ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিলো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটি ‘শেখ ইসা’-তে ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নতুন ও চাঞ্চল্যকর স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি’র বরাত দিয়ে প্রকাশিত এই নতুন ছবিগুলোতে মার্কিন ঘাঁটির ভেতরে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্যাটেলাইট চিত্রগুলো ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের তথাকথিত নিরেট নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

প্রকাশিত নতুন স্যাটেলাইট ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘাঁটির ভেতরে থাকা মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষ করে, প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি বা ‘রাডার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ‘লঞ্চার’ বা উৎক্ষেপণকারী যানও এই হামলায় চূর্ণ-বিচূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রাডার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি অকেজো হয়ে পড়ায় ওই অঞ্চলের পুরো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি সাময়িকভাবে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও বৈরী শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান এটিকে একটি ‘প্রতিশোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা নয়, বরং অঞ্চলটিতে মার্কিন একাধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই হামলায় অত্যন্ত নিখুঁত ও আধুনিক নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। যার ফলে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার মতো সুরক্ষিত আকাশ প্রতিরক্ষাকে ফাঁকি দিয়ে ঠিক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ না করলেও, স্যাটেলাইট ছবিগুলো সামনে আসার পর তারা বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবসহ অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাহরাইনের এই মার্কিন ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ধ্বংসযজ্ঞ কেবল আমেরিকার সামরিক সক্ষমতাকেই আঘাত করেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত অবস্থানকেও দুর্বল করে তুলেছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বাহরাইনে মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা’ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিলো ইরান

আপডেট সময় : ০৫:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটি ‘শেখ ইসা’-তে ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নতুন ও চাঞ্চল্যকর স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি’র বরাত দিয়ে প্রকাশিত এই নতুন ছবিগুলোতে মার্কিন ঘাঁটির ভেতরে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্যাটেলাইট চিত্রগুলো ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের তথাকথিত নিরেট নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

প্রকাশিত নতুন স্যাটেলাইট ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘাঁটির ভেতরে থাকা মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষ করে, প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি বা ‘রাডার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ‘লঞ্চার’ বা উৎক্ষেপণকারী যানও এই হামলায় চূর্ণ-বিচূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রাডার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি অকেজো হয়ে পড়ায় ওই অঞ্চলের পুরো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি সাময়িকভাবে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও বৈরী শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান এটিকে একটি ‘প্রতিশোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা নয়, বরং অঞ্চলটিতে মার্কিন একাধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই হামলায় অত্যন্ত নিখুঁত ও আধুনিক নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। যার ফলে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার মতো সুরক্ষিত আকাশ প্রতিরক্ষাকে ফাঁকি দিয়ে ঠিক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ না করলেও, স্যাটেলাইট ছবিগুলো সামনে আসার পর তারা বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবসহ অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাহরাইনের এই মার্কিন ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ধ্বংসযজ্ঞ কেবল আমেরিকার সামরিক সক্ষমতাকেই আঘাত করেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত অবস্থানকেও দুর্বল করে তুলেছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে।