‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার’-এ প্রথম স্থান অর্জন করল কোরিয়ান ইপিজেড
পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং বনায়নে দৃষ্টান্তমূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫-এ প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কাছ থেকে ইয়াংওয়ান করপোরেশন ও কেইপিজেডের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কিহাক সাং এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।
কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী একসময়কার অনুর্বর ভূমিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবেশবান্ধব বেসরকারি শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের স্বীকৃতি হিসেবে কেইপিজেডকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিক বৃক্ষরোপণ, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি টেকসই উন্নয়নের একটি উদাহরণ তৈরি করেছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ২ হাজার ৪৯২ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা কেইপিজেড তাদের মোট জমির ৫২ শতাংশ বনভূমি, বোটানিক্যাল গার্ডেন, লেক, দিঘি ও উন্মুক্ত সবুজ এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ করেছে। বাকি ৪৮ শতাংশ শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে জমির মালিকানা গ্রহণের পর থেকে কেইপিজেড এলাকায় ৩০ লাখের বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিবছর আরও প্রায় ২ লাখ গাছ লাগানোর কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারি অধ্যাপক এবং কেইপিজেড বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, বর্তমানে এখানে বিরল ও বিপন্ন দেশীয় প্রজাতিসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১ হাজার ৮৫০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের বৃহত্তম সংরক্ষিত বোটানিক্যাল গার্ডেনে পরিণত হবে।
পানি সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় কেইপিজেডে ৩৭টি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ৬০০ মিলিয়ন গ্যালনের বেশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে এ ধারণক্ষমতা ১ বিলিয়ন গ্যালনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া পুনরুদ্ধার করা বাস্তুতন্ত্রে বর্তমানে ২৯২ প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৫৯ প্রজাতির পাখি, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৮৬ প্রজাতির প্রজাপতি এবং ২০ প্রজাতির ড্রাগনফ্লাই ও ড্যামসেলফ্লাই।
কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫ প্রতিষ্ঠানটির সেই দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির স্বীকৃতি, যেখানে শিল্প উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এই সম্মাননা বাংলাদেশের সবুজ শিল্পায়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

























