1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে ঝুঁকিতে ১২ লাখের বেশি পোশাকশ্রমিকের চাকরি: সিপিডি

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার দ্রুত বিস্তারের কারণে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের ১২ লাখ ২০ হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির আশঙ্কা, ২০৪১ সালের মধ্যে এই খাতে কর্মরত প্রায় ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হতে পারে, যদি প্রয়োজনীয় নীতিগত প্রস্তুতি নেওয়া না হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) ‘পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশ: বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মপরিবেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দূরদৃষ্টি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. তৌফিকুল ইসলাম খান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন অটোমেশন, এআই, ডিজিটাল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন দেশের শ্রমবাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালে দেশে প্রায় ১৩ লাখ চাকরি কমেছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই নারী কর্মীদের।

ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে নীতিনির্ধারকদের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষায় (টিভিইটি) ভর্তির হার ২০ শতাংশেরও কম, আর শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দক্ষতার ঘাটতি, বাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার অসামঞ্জস্য এবং এআই ও অটোমেশনের দ্রুত বিস্তার শ্রমবাজারে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান প্রায় ৮১ লাখে স্থির থাকলেও উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে সেবা খাতে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ কাজ করলেও এর বড় অংশ অনিরাপদ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে নিয়োজিত।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) পূর্বাভাস তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে এআই ও অটোমেশন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেও প্রায় ৯০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত করবে। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাই ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের মূল চাবিকাঠি হবে।

সিপিডি ২০৩৫ সালের জন্য চারটি সম্ভাব্য শ্রমবাজারের চিত্র তুলে ধরে জানিয়েছে, সব ক্ষেত্রেই ডিজিটালায়ন আরও বিস্তৃত হবে, কর্মসংস্থান উচ্চমূল্যের সেবাখাতে স্থানান্তরিত হবে, দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার ঘাটতি থাকবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কার ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদনে বর্তমান নীতিমালার কয়েকটি বড় দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গিগ ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য সমন্বিত নীতির অভাব, অটোমেশনের প্রভাব বিবেচনায় যথাযথ নীতিনির্ধারণের ঘাটতি, দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাস্তব চাহিদার প্রতিফলনের অভাব এবং বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকা।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিপিডি শিল্পের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা সংস্কার, জীবনব্যাপী পুনঃদক্ষতা (রিস্কিলিং) কর্মসূচি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জাতীয় শ্রমবাজার তথ্যব্যবস্থা (এলএমআইএস) গড়ে তোলা, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

সিপিডির মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা কঠিন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে ঝুঁকিতে ১২ লাখের বেশি পোশাকশ্রমিকের চাকরি: সিপিডি

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার দ্রুত বিস্তারের কারণে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের ১২ লাখ ২০ হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির আশঙ্কা, ২০৪১ সালের মধ্যে এই খাতে কর্মরত প্রায় ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হতে পারে, যদি প্রয়োজনীয় নীতিগত প্রস্তুতি নেওয়া না হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) ‘পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশ: বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মপরিবেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দূরদৃষ্টি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. তৌফিকুল ইসলাম খান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন অটোমেশন, এআই, ডিজিটাল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন দেশের শ্রমবাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালে দেশে প্রায় ১৩ লাখ চাকরি কমেছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই নারী কর্মীদের।

ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে নীতিনির্ধারকদের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষায় (টিভিইটি) ভর্তির হার ২০ শতাংশেরও কম, আর শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দক্ষতার ঘাটতি, বাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার অসামঞ্জস্য এবং এআই ও অটোমেশনের দ্রুত বিস্তার শ্রমবাজারে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান প্রায় ৮১ লাখে স্থির থাকলেও উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে সেবা খাতে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ কাজ করলেও এর বড় অংশ অনিরাপদ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে নিয়োজিত।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) পূর্বাভাস তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে এআই ও অটোমেশন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেও প্রায় ৯০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত করবে। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাই ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের মূল চাবিকাঠি হবে।

সিপিডি ২০৩৫ সালের জন্য চারটি সম্ভাব্য শ্রমবাজারের চিত্র তুলে ধরে জানিয়েছে, সব ক্ষেত্রেই ডিজিটালায়ন আরও বিস্তৃত হবে, কর্মসংস্থান উচ্চমূল্যের সেবাখাতে স্থানান্তরিত হবে, দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার ঘাটতি থাকবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কার ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদনে বর্তমান নীতিমালার কয়েকটি বড় দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গিগ ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য সমন্বিত নীতির অভাব, অটোমেশনের প্রভাব বিবেচনায় যথাযথ নীতিনির্ধারণের ঘাটতি, দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাস্তব চাহিদার প্রতিফলনের অভাব এবং বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকা।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিপিডি শিল্পের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা সংস্কার, জীবনব্যাপী পুনঃদক্ষতা (রিস্কিলিং) কর্মসূচি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জাতীয় শ্রমবাজার তথ্যব্যবস্থা (এলএমআইএস) গড়ে তোলা, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থান কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

সিপিডির মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা কঠিন হবে।