আওয়ামী সরকারের প্রশংসা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা; জিয়া পরিবার নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ মাভাবিপ্রবির ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের বিরুদ্ধে
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করীমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পুরোনো বিভিন্ন পোস্ট সামনে আসার পর আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কবিতা-গল্প লেখা এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থপাচারসংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বর সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজার লেখা জিয়া পরিবারকে নিয়ে অর্থপাচারসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন অধ্যাপক ফজলুল করীম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছিলেন। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সময়ে কবিতা, গল্প ও প্রশংসামূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেও তিনি নিয়মিত পোস্ট করেছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
সম্প্রতি এসব পুরোনো পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে তার বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করীম মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোর মধ্যে এ পদটিও অন্যতম।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে অধ্যাপক ফজলুল করীমের সম্পৃক্ততা ছিল। একই সঙ্গে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিতর্কিত সংবাদ প্রচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এরপরই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে আসেন।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—একজন শিক্ষকের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি তার অবস্থান প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? তার নিয়োগের আগে এসব বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিরপেক্ষতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে অধ্যাপক ফজলুল করীমের অতীত কর্মকাণ্ড ও বর্তমান প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটি পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।
### যা বলছেন অধ্যাপক ফজলুল করীম
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করীম বলেন, অর্থপাচারসংক্রান্ত পোস্টের বিষয়টি তার সঠিকভাবে মনে নেই।
তিনি বলেন, “আমি মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করি। সেই জায়গা থেকেই পোস্টগুলো করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমি ২৪-কে ধারণ করেছি এবং এখনও সেই আদর্শেই আছি। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী নই। আমি জিয়াউর রহমানকেও সম্মান করি।”
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসা করে পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি বিগত সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করেছি। এই সরকারের ভালো কাজেরও প্রশংসা করব এবং খারাপ করলে সমালোচনা করব।”
অধ্যাপক ফজলুল করীমের বক্তব্যের পরও তার পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে তার বহাল থাকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিতর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

























