২৩ দিন পর উৎপাদনে ফিরল ইস্টার্ন রিফাইনারি
২৩ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল ক্রুড অয়েল সংকটের প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে সৌদি আরব থেকে আনা ক্রুড অয়েল দিয়ে রিফাইনারি চালু করা হয়।
ভোর ৫টা থেকেই ফায়ার্ড হিটারে প্রসেসিং শুরু হলেও এক ঘণ্টা পর থেকে শুরু হয় পুরোদমে ক্রুড পরিশোধন। উত্তপ্ত ক্রুড অয়েল থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল নির্ধারিত ট্যাংক ফার্মের স্টোরেজে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে শোধনাগারের পাশের জেটিতে থাকা লাইটারেজ জাহাজ থেকেও সমানতালে চলছে ক্রুড অয়েল খালাস।
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আকতার কামাল বলেন, ক্রুড অয়েল রিফাইনারিতে এসেছে এবং শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে এর প্রসেসিং শুরু হয়েছে। খুব দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করে এসব জ্বালানি তিনটি তেল কোম্পানির কাছে সরবরাহ করা হবে।
মূলত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল না থাকায় গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বহুল আলোচিত হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে লোড করা ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ এমটি নাইমনিয়া গত বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, আরেকটি এক লাখ টনের কার্গো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা পোর্ট থেকে লোড হবে, যা গালফের বাইরে হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এতে পড়বে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এই শোধনাগারের দুটি ইউনিটে, যার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়া মজুত থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন চলতে পারে। ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করলে পাওয়া যাবে ২৬ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ২১ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন।
এদিকে চলতি মাসেই আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি কেনা হয়েছে। ১০ মে ফুজাইরা বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল নিয়ে ২৫ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভাড়া করা জাহাজ।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ৪ লাখ টন তেল যদি বাংলাদেশে এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সরবরাহ করা যায়, তবে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড এবং দেড় লাখ মেট্রিক টনের বেশি পরিশোধিত জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে।



















