1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. motalebsenbag1@gmail.com : Md.Abdul Motaleb :
  3. vision3zero@gmail.com : Shahidul islam sharif :
  4. zonebd62@gmail.com : staffreporter202527 :
ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালপুরে হাঁটু পানিতে ডুবে শ্রেণিকক্ষ, ক্লাস বন্ধ

মোঃ নাজিবুল রহমান নাসিম লালপুর( নাটোর) প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাটোরের লালপুর উপজেলার শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতায় আবারও ব্যাহত হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয় পাঠদান। আর সেই সুযোগে বিদ্যালয় মাঠ ও প্রাঙ্গণে জমে থাকা পানিতে মাছ ধরায় মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রাতের ভারী বর্ষণের পর বিদ্যালয় চত্বর ও শ্রেণিকক্ষগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশন না হয়ে মাঠ ও ভবনের ভেতরে জমে থাকে। সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে পানিবন্দি অবস্থার মধ্যেই ক্লাসে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে।

বিদ্যালয়ে নিয়ম অনুযায়ী বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস চলার কথা থাকলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় পাঠদান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছুটি ঘোষণা করে।

ছুটি ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় মাঠে জমে থাকা পানিতে মাছ ধরতে দেখা যায়। কেউ জাল, কেউ আবার ছোট ছাঁকনি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এমন দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা হাতে শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেখানে তারা জলাবদ্ধ মাঠে মাছ ধরছে। বিদ্যালয়ের এমন করুণ চিত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “ক্লাসরুমে পানি ঢুকে যাওয়ায় ঠিকমতো বসা যায় না। বই-খাতা ভিজে যায়। আজ ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই মাঠে মাছ ধরতে নেমেছে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাজা মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, “সমস্যাটি নতুন নয়। আমরা বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও বিদ্যালয় মাঠ উঁচুকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় এমন দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

লালপুরে হাঁটু পানিতে ডুবে শ্রেণিকক্ষ, ক্লাস বন্ধ

আপডেট সময় : ০৮:০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নাটোরের লালপুর উপজেলার শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতায় আবারও ব্যাহত হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয় পাঠদান। আর সেই সুযোগে বিদ্যালয় মাঠ ও প্রাঙ্গণে জমে থাকা পানিতে মাছ ধরায় মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রাতের ভারী বর্ষণের পর বিদ্যালয় চত্বর ও শ্রেণিকক্ষগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশন না হয়ে মাঠ ও ভবনের ভেতরে জমে থাকে। সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে পানিবন্দি অবস্থার মধ্যেই ক্লাসে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে।

বিদ্যালয়ে নিয়ম অনুযায়ী বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস চলার কথা থাকলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় পাঠদান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছুটি ঘোষণা করে।

ছুটি ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় মাঠে জমে থাকা পানিতে মাছ ধরতে দেখা যায়। কেউ জাল, কেউ আবার ছোট ছাঁকনি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এমন দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা হাতে শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেখানে তারা জলাবদ্ধ মাঠে মাছ ধরছে। বিদ্যালয়ের এমন করুণ চিত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “ক্লাসরুমে পানি ঢুকে যাওয়ায় ঠিকমতো বসা যায় না। বই-খাতা ভিজে যায়। আজ ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই মাঠে মাছ ধরতে নেমেছে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাজা মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, “সমস্যাটি নতুন নয়। আমরা বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও বিদ্যালয় মাঠ উঁচুকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় এমন দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।