টুঙ্গিপাড়ায় অসম্পূর্ণ সড়ক ও চলাচল সংকটে ২০ পরিবার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের চর গওহরডাঙ্গা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় প্রায় ২০টি পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জটিলতার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মিত হয়নি, ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুমতি নদীর তীরবর্তী মোল্লাহাট-পাটগাতী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কের বেশিরভাগ অংশ নির্মিত হলেও এর সংযোগ অংশ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চর গওহরডাঙ্গায় অবস্থিত এবিসি ব্রিকস ইটভাটা ও একটি জুটমিলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতার কারণেই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ইটভাটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করতেন। তবে সম্প্রতি নির্দিষ্ট সময়ের পর ওই পথে প্রবেশের গেট বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও সাধারণ বাসিন্দাদের সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রাতের বেলায় বাইরে যাওয়া কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২০০ ফুট অংশও ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তাদের মতে, রাস্তার এই অসম্পূর্ণতা এবং বিকল্প পথ ব্যবহারে বিধিনিষেধের কারণে তারা কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা খালেদা বেগম বলেন, পরিবারের সদস্যদের কাজের সময় ও চলাচল এখন গেট খোলার সময়সূচির ওপর নির্ভরশীল। রাতের বেলায় কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন বাসিন্দা, যারা দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জুটমিল ও ইটভাটা মালিকপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি খালিদ হাসান দাবি করেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে সন্ধ্যার পর গেট বন্ধ রাখা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় মাদকসেবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে গেট খুলে দেওয়ার জন্য সেখানে সবসময় নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করেন বলেও তিনি জানান।
সড়ক নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্বে আলোচনা হয়েছিল, তবে কিছু শর্ত নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। রাস্তার বালু অপসারণ বা সড়কের অংশ কেটে ফেলার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।
এদিকে, প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ থাকার কারণ জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সড়কের অসমাপ্ত অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে এবং তাদের স্বাভাবিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।






















