1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন, ক্যাপসুল পাবে ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। অন্ধত্ব প্রতিরোধ, পুষ্টিহীনতা দূর করা এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানিয়েছেন, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইপিআই কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তবে দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পেইনের পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যাতে কোনো শিশু সেবার বাইরে না থাকে।

ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নিবিড় তদারকির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিকে সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। বর্তমানে এটি জাতীয় পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন, ক্যাপসুল পাবে ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু

আপডেট সময় : ০৪:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ১৪ মাস বিরতির পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। অন্ধত্ব প্রতিরোধ, পুষ্টিহীনতা দূর করা এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানিয়েছেন, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইপিআই কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তবে দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পেইনের পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যাতে কোনো শিশু সেবার বাইরে না থাকে।

ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নিবিড় তদারকির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিকে সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। বর্তমানে এটি জাতীয় পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।