1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট কর দিতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী অর্থবছরে সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আসবে মুদি দোকান, কসমেটিকসের দোকান, রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লারসহ ১৬ ধরনের ব্যবসা। গতকাল বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ভ্যাটের নতুন উৎস সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ভ্যাটের ‘সুনির্দিষ্ট কর’ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে এমন ১৬ ধরনের ব্যবসার নাম উল্লেখ করেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ছোট ব্যবসা থেকে ভ্যাট আদায় বাড়াতে সরকার বর্তমানে প্রচলিত বিক্রির ওপর কর বা টার্নওভার ট্যাক্সের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট অঙ্কের কর আদায় করবে। কোন ব্যবসার ওপর কত কর দিতে হবে, তা এলাকাভেদে নির্ধারণ করে বিধিমালা জারি করবে এনবিআর। জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট করের পরিমাণ হতে পারে বছরে এক, পাঁচ বা ১০ হাজার টাকা। সংস্থাটি বর্তমানে এ বিষয়ে সারাদেশে জরিপ করছে।

কর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর সুনির্দিষ্ট করের যে চাপ. তা শেষমেশ গিয়ে পড়বে ভোক্তার ওপর।
গতকাল জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্ন ছিল, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা? থাকলে সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী? গত অর্থবছরে ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কত ছিল?

SAMAKAL | GET THE LATEST ONLINE BANGLA NEWS

বাংলাদেশ
মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট কর দিতে হবে

মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট কর দিতে হবে×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৮:১৯ | আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৯:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

FacebookXWhatsAppLinkedInTelegramMessengerEmailShare


+
আগামী অর্থবছরে সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আসবে মুদি দোকান, কসমেটিকসের দোকান, রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লারসহ ১৬ ধরনের ব্যবসা। গতকাল বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ভ্যাটের নতুন উৎস সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ভ্যাটের ‘সুনির্দিষ্ট কর’ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে এমন ১৬ ধরনের ব্যবসার নাম উল্লেখ করেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ছোট ব্যবসা থেকে ভ্যাট আদায় বাড়াতে সরকার বর্তমানে প্রচলিত বিক্রির ওপর কর বা টার্নওভার ট্যাক্সের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট অঙ্কের কর আদায় করবে। কোন ব্যবসার ওপর কত কর দিতে হবে, তা এলাকাভেদে নির্ধারণ করে বিধিমালা জারি করবে এনবিআর। জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট করের পরিমাণ হতে পারে বছরে এক, পাঁচ বা ১০ হাজার টাকা। সংস্থাটি বর্তমানে এ বিষয়ে সারাদেশে জরিপ করছে।

কর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর সুনির্দিষ্ট করের যে চাপ. তা শেষমেশ গিয়ে পড়বে ভোক্তার ওপর।
গতকাল জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্ন ছিল, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা? থাকলে সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী? গত অর্থবছরে ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কত ছিল?

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে ১৬ ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এগুলো হলো– মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট এবং স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিন-রড-সিমেন্টের দোকান, ফার্নিচারের দোকান, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্নের দোকান এবং রেস্টুরেন্ট।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ সরকারের আয় ছিল এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

কীভাবে চালু হবে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার বা বিক্রি ৫০ লাখ টাকার ওপরে, তারা সাধারণ ভ্যাট ব্যবস্থার আওতাভুক্ত। আর যাদের বিক্রি ৫০ লাখ টাকার কম, তাদের বর্তমানে ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এই কর আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্সের পরিবর্তে একটি ফ্ল্যাট রেট বা সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীর প্রকৃত বিক্রির হিসাব রাখা বা তার ওপর ভিত্তি করে কর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে দোকানের অবস্থান, গুরুত্ব এবং ব্যবসার ধরন অনুযায়ী এনবিআর একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের কর নির্ধারণ করে দেবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, অন্যান্য সিটি করপোরেশন, জেলা শহর এবং উপজেলা পর্যায়ের বাজারের জন্য ব্যবসার ধরন ও আকার অনুযায়ী বার্ষিক একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের কর নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণত ভ্যাট বা টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হলে হিসাব রাখা ও রিটার্ন জমা দেওয়ার মতো জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন। এ পদ্ধতি চালু হলে একজন ক্ষুদ্র দোকানির জন্য কর দেওয়া সহজ হবে। তারা বছরে মাত্র একবার বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে ট্যাক্সের দায়মুক্ত হতে পারবেন, যা এনবিআরের জন্য রাজস্ব সংগ্রহ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য কর প্রদান উভয়ই সহজ করবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কর ব্যবস্থার বাইরে থাকা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হবে।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাত লাখ ৭৫ হাজার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ ১৬ হাজার। ভ্যাটের আওতা বাড়াতে সরকার বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধনের বার্ষিক টার্নওভারের সীমা তিন কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর নিবন্ধন দ্রুত বাড়ছে। এনবিআর আগামী এক বছরের মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের ৪৬৫টি ব্যবসায়ী সংগঠনকে তাদের সদস্য তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পৌনে আট লাখের কাছাকাছি হলেও বর্তমানে নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে মাত্র প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার প্রতিষ্ঠান।

জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য মো. আজিজুর রহমান (মূসক বা ভ্যাট নীতি) সমকালকে বলেন, এনবিআর সারাদেশে এ ধরনের দোকানের ম্যাপিং ও সার্ভে (জরিপ) করছে। এলাকাভেদে কোন দোকান কত টাকা কর দেবে তা একটি বই বা নির্দেশিকা আকারে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি রয়েছে প্রস্তাব পর্যায়ে। আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছোট ব্যবসায়ীদের হয়রানি যেন না হয়
কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানদার তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান সমকালকে বলেন, এমন হলে ছোট ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়বেন। এনবিআরের কর্মকর্তারা দোকানে দোকানে অভিযান করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করবেন। এটা যেন না হয়।

সুনির্দিষ্ট করের প্রস্তাব বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। সমকালকে তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের একটা প্রথা ছিল। অর্থাৎ প্যাকেজ ভ্যাট। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এনবিআর একেক সময় একেক ধরনের নিয়ম চালু করে। এতে ব্যবসায়ীদের জটিলতা বাড়ে।

হেলাল উদ্দিন বলেন, উৎপাদন বা সরবরাহ পর্যায়ে এই কর বা ভ্যাট যা-ই হোক, তা নিয়ে নিলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর ঝামেলা তৈরি হবে না। নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে এনবিআরের কর্মকর্তারা অযাচিতভাবে ছোট ব্যবসায়ীদেরও হয়রানি করতে পারেন।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়ার শঙ্কা
এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া সমকালকে বলেন, বিদ্যমান আইনে ৪ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্সের বিধান থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানদাররা সাধারণত এনবিআরকে দেয় না বা তাদের প্রকৃত বিক্রির হিসাব প্রকাশ করে না। সম্ভবত এ জটিলতা দূর করতেই সরকার এলাকাভিত্তিক একটি সুনির্দিষ্ট কর নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ওই দোকানদারদের আর জটিল হিসাব বা বই-খাতা রাখার প্রয়োজন হবে না। শুধু সরকার নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কর হিসেবে দিতে হবে।

স্নেহাশীষ বড়ুয়ার মতে, এই কর এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। যেমন ঢাকার গুলশান বা বনানীর একটি দোকানের জন্য মাসে একটি নির্দিষ্ট ভ্যাট বা কর নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। নতুন এই সুনির্দিষ্ট করের সীমা কোন এলাকায় কত, তা বিধিমালা জারি হলে স্পষ্ট হবে। তবে এই নতুন ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, দোকানদাররা যখন এই বাড়তি কর দেবেন, তখন তারা সরবরাহকারী বা ডিস্ট্রিবিউটরদের থেকে বাড়তি কমিশন আকারে তা নেওয়ার চেষ্টা করবেন। ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানি বা আমদানিকারকদের কাছ থেকে নিতে চাইবেন। ফলে উৎপাদনকারী বা আমদানিকারকরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে তা সমন্বয় করবেন।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া উল্লেখ করেন, লাখ লাখ ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে কর আদায় করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং এতে সরকারের খরচ বেশি হবে, কিন্তু আদায় কম হতে পারে। তার পরিবর্তে তিনি উৎপাদনকারী, আমদানিকারক এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের সঠিকভাবে করের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বড় পর্যায়ে ইলেকট্রনিক ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ না দিয়েই বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট কর দিতে হবে

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

আগামী অর্থবছরে সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আসবে মুদি দোকান, কসমেটিকসের দোকান, রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লারসহ ১৬ ধরনের ব্যবসা। গতকাল বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ভ্যাটের নতুন উৎস সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ভ্যাটের ‘সুনির্দিষ্ট কর’ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে এমন ১৬ ধরনের ব্যবসার নাম উল্লেখ করেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ছোট ব্যবসা থেকে ভ্যাট আদায় বাড়াতে সরকার বর্তমানে প্রচলিত বিক্রির ওপর কর বা টার্নওভার ট্যাক্সের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট অঙ্কের কর আদায় করবে। কোন ব্যবসার ওপর কত কর দিতে হবে, তা এলাকাভেদে নির্ধারণ করে বিধিমালা জারি করবে এনবিআর। জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট করের পরিমাণ হতে পারে বছরে এক, পাঁচ বা ১০ হাজার টাকা। সংস্থাটি বর্তমানে এ বিষয়ে সারাদেশে জরিপ করছে।

কর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর সুনির্দিষ্ট করের যে চাপ. তা শেষমেশ গিয়ে পড়বে ভোক্তার ওপর।
গতকাল জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্ন ছিল, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা? থাকলে সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী? গত অর্থবছরে ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কত ছিল?

SAMAKAL | GET THE LATEST ONLINE BANGLA NEWS

বাংলাদেশ
মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট কর দিতে হবে

মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট কর দিতে হবে×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৮:১৯ | আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৯:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

FacebookXWhatsAppLinkedInTelegramMessengerEmailShare


+
আগামী অর্থবছরে সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আসবে মুদি দোকান, কসমেটিকসের দোকান, রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লারসহ ১৬ ধরনের ব্যবসা। গতকাল বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ভ্যাটের নতুন উৎস সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ভ্যাটের ‘সুনির্দিষ্ট কর’ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে এমন ১৬ ধরনের ব্যবসার নাম উল্লেখ করেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ছোট ব্যবসা থেকে ভ্যাট আদায় বাড়াতে সরকার বর্তমানে প্রচলিত বিক্রির ওপর কর বা টার্নওভার ট্যাক্সের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট অঙ্কের কর আদায় করবে। কোন ব্যবসার ওপর কত কর দিতে হবে, তা এলাকাভেদে নির্ধারণ করে বিধিমালা জারি করবে এনবিআর। জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট করের পরিমাণ হতে পারে বছরে এক, পাঁচ বা ১০ হাজার টাকা। সংস্থাটি বর্তমানে এ বিষয়ে সারাদেশে জরিপ করছে।

কর বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর সুনির্দিষ্ট করের যে চাপ. তা শেষমেশ গিয়ে পড়বে ভোক্তার ওপর।
গতকাল জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্ন ছিল, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা? থাকলে সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী? গত অর্থবছরে ভ্যাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কত ছিল?

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে ১৬ ধরনের ব্যবসায়িক খাতকে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এগুলো হলো– মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট এবং স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিন-রড-সিমেন্টের দোকান, ফার্নিচারের দোকান, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্নের দোকান এবং রেস্টুরেন্ট।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ সরকারের আয় ছিল এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

কীভাবে চালু হবে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার বা বিক্রি ৫০ লাখ টাকার ওপরে, তারা সাধারণ ভ্যাট ব্যবস্থার আওতাভুক্ত। আর যাদের বিক্রি ৫০ লাখ টাকার কম, তাদের বর্তমানে ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এই কর আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্সের পরিবর্তে একটি ফ্ল্যাট রেট বা সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীর প্রকৃত বিক্রির হিসাব রাখা বা তার ওপর ভিত্তি করে কর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে দোকানের অবস্থান, গুরুত্ব এবং ব্যবসার ধরন অনুযায়ী এনবিআর একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের কর নির্ধারণ করে দেবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, অন্যান্য সিটি করপোরেশন, জেলা শহর এবং উপজেলা পর্যায়ের বাজারের জন্য ব্যবসার ধরন ও আকার অনুযায়ী বার্ষিক একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের কর নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণত ভ্যাট বা টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হলে হিসাব রাখা ও রিটার্ন জমা দেওয়ার মতো জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন। এ পদ্ধতি চালু হলে একজন ক্ষুদ্র দোকানির জন্য কর দেওয়া সহজ হবে। তারা বছরে মাত্র একবার বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে ট্যাক্সের দায়মুক্ত হতে পারবেন, যা এনবিআরের জন্য রাজস্ব সংগ্রহ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য কর প্রদান উভয়ই সহজ করবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কর ব্যবস্থার বাইরে থাকা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হবে।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাত লাখ ৭৫ হাজার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ ১৬ হাজার। ভ্যাটের আওতা বাড়াতে সরকার বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধনের বার্ষিক টার্নওভারের সীমা তিন কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর নিবন্ধন দ্রুত বাড়ছে। এনবিআর আগামী এক বছরের মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের ৪৬৫টি ব্যবসায়ী সংগঠনকে তাদের সদস্য তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পৌনে আট লাখের কাছাকাছি হলেও বর্তমানে নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে মাত্র প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার প্রতিষ্ঠান।

জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য মো. আজিজুর রহমান (মূসক বা ভ্যাট নীতি) সমকালকে বলেন, এনবিআর সারাদেশে এ ধরনের দোকানের ম্যাপিং ও সার্ভে (জরিপ) করছে। এলাকাভেদে কোন দোকান কত টাকা কর দেবে তা একটি বই বা নির্দেশিকা আকারে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি রয়েছে প্রস্তাব পর্যায়ে। আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছোট ব্যবসায়ীদের হয়রানি যেন না হয়
কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানদার তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান সমকালকে বলেন, এমন হলে ছোট ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়বেন। এনবিআরের কর্মকর্তারা দোকানে দোকানে অভিযান করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করবেন। এটা যেন না হয়।

সুনির্দিষ্ট করের প্রস্তাব বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। সমকালকে তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের একটা প্রথা ছিল। অর্থাৎ প্যাকেজ ভ্যাট। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এনবিআর একেক সময় একেক ধরনের নিয়ম চালু করে। এতে ব্যবসায়ীদের জটিলতা বাড়ে।

হেলাল উদ্দিন বলেন, উৎপাদন বা সরবরাহ পর্যায়ে এই কর বা ভ্যাট যা-ই হোক, তা নিয়ে নিলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর ঝামেলা তৈরি হবে না। নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে এনবিআরের কর্মকর্তারা অযাচিতভাবে ছোট ব্যবসায়ীদেরও হয়রানি করতে পারেন।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়ার শঙ্কা
এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া সমকালকে বলেন, বিদ্যমান আইনে ৪ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্সের বিধান থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানদাররা সাধারণত এনবিআরকে দেয় না বা তাদের প্রকৃত বিক্রির হিসাব প্রকাশ করে না। সম্ভবত এ জটিলতা দূর করতেই সরকার এলাকাভিত্তিক একটি সুনির্দিষ্ট কর নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ওই দোকানদারদের আর জটিল হিসাব বা বই-খাতা রাখার প্রয়োজন হবে না। শুধু সরকার নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কর হিসেবে দিতে হবে।

স্নেহাশীষ বড়ুয়ার মতে, এই কর এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। যেমন ঢাকার গুলশান বা বনানীর একটি দোকানের জন্য মাসে একটি নির্দিষ্ট ভ্যাট বা কর নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। নতুন এই সুনির্দিষ্ট করের সীমা কোন এলাকায় কত, তা বিধিমালা জারি হলে স্পষ্ট হবে। তবে এই নতুন ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, দোকানদাররা যখন এই বাড়তি কর দেবেন, তখন তারা সরবরাহকারী বা ডিস্ট্রিবিউটরদের থেকে বাড়তি কমিশন আকারে তা নেওয়ার চেষ্টা করবেন। ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানি বা আমদানিকারকদের কাছ থেকে নিতে চাইবেন। ফলে উৎপাদনকারী বা আমদানিকারকরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে তা সমন্বয় করবেন।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া উল্লেখ করেন, লাখ লাখ ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে কর আদায় করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং এতে সরকারের খরচ বেশি হবে, কিন্তু আদায় কম হতে পারে। তার পরিবর্তে তিনি উৎপাদনকারী, আমদানিকারক এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের সঠিকভাবে করের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বড় পর্যায়ে ইলেকট্রনিক ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ না দিয়েই বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব।