গরম ও বিদ্যুৎ সংকটে গোপালগঞ্জে পোল্ট্রি খাত চাপে, কমেছে মাংস ও ডিম উৎপাদন
গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাবে পোল্ট্রি শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে অনেক খামারে মুরগি হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে, পাশাপাশি ডিমের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। তবে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে জেলায় তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসায় বর্তমানে লোডশেডিং বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জে মোট প্রায় আড়াই হাজার পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এর মধ্যে ব্রয়লার, লেয়ার এবং হাঁসের খামার মিলিয়ে বছরে বিপুল পরিমাণ মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদিত হয়, যা জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কাশিয়ানী উপজেলার এক ব্রয়লার খামারি জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে খামারে মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মারা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের মাধ্যমে খামার সচল রাখতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এক কেজি ব্রয়লার উৎপাদনে যে খরচ হচ্ছে, বাজারমূল্য তার তুলনায় খুব বেশি লাভজনক নয়। তিনি মনে করেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমানো গেলে খামারিরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
অন্যদিকে, মুকসুদপুর উপজেলার এক লেয়ার খামারির ভাষ্য, অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ডিম উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। প্রতিদিন খামার পরিচালনায় বড় অঙ্কের ব্যয় হলেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে পোল্ট্রি ফিডের উচ্চমূল্য এবং ডিমের তুলনামূলক কম দাম পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, চলমান গরমের প্রভাবে জেলার বিভিন্ন খামারে প্রায় ১০ শতাংশ মুরগির মৃত্যু ঘটেছে এবং ডিমের উৎপাদনেও ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তিনি খামারিদের গরমের সময়ে মুরগিকে ঠান্ডা পরিবেশে রাখা, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খামারের স্বাস্থ্যবিধি ও বায়োসিকিউরিটি কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জানান, জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৯০ মেগাওয়াট হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত আকারে লোডশেডিং করা হয়েছিল। তবে ৩০ জুন সন্ধ্যার পর থেকে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো লোডশেডিং হচ্ছে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

























