মাদারীপুরে গৃহবধূকে কোকাকোলার সাথে চেতনানাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক
মাদারীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ল্যামিয়া আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতন ও কোমল পানীয়র সাথে চেতনানাশক বা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ইতালি প্রবাসী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
আজ ১৫ জুলাই (বুধবার) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী আরিফ বেপারী (৩০) হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন।
নিহত লামিয়া আক্তার হাসানকান্দি গ্রামের বাশার শেখের মেয়ে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আরিফ বেপারী মাদারীপুর সদর থানার নতুন রাজারহাট গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বাড়িতে স্ত্রী লামিয়ার সাথে স্বামী আরিফের প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আরিফ বেপারী, তার চার বোন, খালা শাশুড়ি, মামাশ্বশুর, নানী শাশুড়ি এবং শ্বশুর মিলে লামিয়ার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।
মারধরের পর কৌশলে লামিয়াকে কোকাকোলার সাথে চেতনানাশক বা তীব্র মাত্রার ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেওয়া হয়। বিষাক্ত সেই পানীয় পানের পরপরই লামিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
মূর্ছিত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাময়িকভাবে লামিয়ার জ্ঞান ফিরলে তিনি তার মায়ের কাছে শ্বশুরবাড়ির নির্মমতার বিবরণ দেন।
মৃত্যুর আগে মায়ের উদ্দেশ্যে লামিয়া বলেন, “আমাকে কোকাকোলার সাথে কিছু মিশিয়ে খাইয়েছে, তারপর আমার আর কিছু মনে নেই।” এর কিছুক্ষণ পরেই ল্যামিয়ার অবস্থার অবনতি হয় এবং আজ দুপুর ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ঘাতক স্বামী আরিফ বেপারী হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করেই কৌশলে পালিয়ে যান।
পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিহত লামিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও সাথে করে নিয়ে গেছেন।আজ ১৫ জুলাই ল্যামিয়ার মৃত্যুর পর তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আরিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত লামিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘাতক আরিফসহ জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।























