পোরশায় এইচএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক দুই যুবক, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১৫ দিনের কারাদণ্ড
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় চলমান উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে এসে ধরা পড়েছেন এক যুবক। পরে মূল পরীক্ষার্থীকেও আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উভয়কে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) পোরশা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পোরশা উপজেলার বারিন্দা গ্রামের মো. জাহিদ হাসানের প্রবেশপত্র ব্যবহার করে তার বন্ধু গাঙ্গুরিয়া দেওনাপাড়া গ্রামের শ্রী বিপ্লব বর্মন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বরত শিক্ষক পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে তার নাম-পরিচয় যাচাই করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জানানো হয়।
পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিপ্লব বর্মন স্বীকার করেন যে, তিনি তার বন্ধু মো. জাহিদ হাসানের পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছেন। এরপর থানা পুলিশ ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মূল পরীক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসানকে কেন্দ্রে আনা হয়। সেখানে তিনি প্রক্সি পরীক্ষার বিষয়টি স্বীকার করলে পুলিশ তাকেও আটক করে।
ঘটনার পর কেন্দ্রে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), পোরশা, মোছাঃ নাবিলা ফেরদৌস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় উভয় অভিযুক্তকে ১৫ (পনেরো) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে পুলিশি প্রহরায় তাদের নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে পোরশা থানার (ওসি) মোঃ জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাবলিক পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও পাবলিক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।




















