‘মুক্তিপণ’ নিতে এসে ধরা এনসিপির দুই নেতা, তাদের ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও ৩
দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংশ্লিষ্ট দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে হাতেনাতে আটক হন দুইজন। পরে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং থানায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী।
গ্রেপ্তাররা হলেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হাসীন ইসরাক মিম এবং মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলাম।
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, আটক দুইজনকে থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে অপহৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির পেছনে অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
তবে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির পুলিশের দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং কেউ অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
























