1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনের দস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্যের অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ, জিম্মি জেলে উদ্ধার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুন্দরবনের দস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য অস্ত্র-গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন মোংলার বিসিজিএস কামরুজ্জামান-এর নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহদীন এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন, বাগেরহাটের মোংলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার জেলার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)।

কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহদীন বলেন, বুধবার (০৮ জুলাই) বিকেলে ৫ টায় বাগেরহাটের শরনখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণ করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ২ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ড এর নিকট জমা প্রদান করে। এছাড়াও উক্ত সময় ডাকাত সদস্যদের নিকট হতে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এর প্রেক্ষিতে গেল ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ৪৯ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার এবং ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

একের পর এক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এর আগে গেল ১৭ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সুমন বাহিনীর প্রধান সুমনসহ পাঁচ সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

মো, নূরুল হুদা
বাগেরহাট

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবনের দস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্যের অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ, জিম্মি জেলে উদ্ধার

আপডেট সময় : ১০:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সুন্দরবনের দস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য অস্ত্র-গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন মোংলার বিসিজিএস কামরুজ্জামান-এর নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহদীন এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন, বাগেরহাটের মোংলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার জেলার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)।

কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহদীন বলেন, বুধবার (০৮ জুলাই) বিকেলে ৫ টায় বাগেরহাটের শরনখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণ করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ২ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ড এর নিকট জমা প্রদান করে। এছাড়াও উক্ত সময় ডাকাত সদস্যদের নিকট হতে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এর প্রেক্ষিতে গেল ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ৪৯ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার এবং ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

একের পর এক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এর আগে গেল ১৭ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সুমন বাহিনীর প্রধান সুমনসহ পাঁচ সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

মো, নূরুল হুদা
বাগেরহাট