মুকসুদপুরে স্ত্রীকে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী আটক
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে ঘরে আটকে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও তাঁর দুই শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে। আহত গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে সোমবার রাতে ঘটে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত নাজমুল শেখ (২৮) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্ত্রী সোনিয়ার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়াতেন। সোমবার রাতেও পারিবারিক বিরোধের জেরে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে নাজমুল ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি স্ত্রীর মাথার চুল কেটে দেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। পুরো ঘটনাটি তাঁদের দুই শিশুসন্তানের সামনেই ঘটে।
মঙ্গলবার সকালে ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশে খবর দিলে সদস্যরা এসে তালা ভেঙে গৃহবধূ ও শিশুদের উদ্ধার করেন। একই সময়ে অভিযুক্ত নাজমুল শেখকে আটক করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোনিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরেই নেশা করে এসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে মারধর করতেন। সর্বশেষ ঘটনায় তাঁকে বেঁধে রেখে রাতভর নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর নাজমুল শেখ স্ত্রীকে বেঁধে রাখার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, তিনি আশঙ্কা করেছিলেন তাঁর স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত এবং এর আগেও পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।
সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর দুই শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে। আহত নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















