1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বলছেন মেসি

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপের আরেকটি রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ওঠার পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি এই জয় উৎসর্গ করেছেন কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে। গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো এটা দারুণভাবে উপভোগ করছে। কারণ আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে ভালো লাগছে। এটাও ওর জন্য একটা উপহার।”

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় আর্জেন্টিনার জন্য ঐতিহাসিক গুরুত্বও বহন করে। কারণ ঠিক ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা করেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দুটি গোল—’হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। সেই ম্যাচটি শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনার জাতীয় আবেগেরও প্রতীক হয়ে আছে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। জার্সিটি হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

জাতীয় সংগীতের সময়ের আবেগের কথা তুলে ধরে মেসি বলেন, “দর্শকদের গুঞ্জন ধীরে ধীরে জোরালো হয়ে উঠছিল। তারা অন্যরকম আবেগ নিয়ে গান গাইছিল, আর আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে সেটা অনুভব করছিলাম। জানতাম এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। সেই অনুভূতি নিয়েই আমরা ম্যাচটি খেলেছি।”

এই জয়ের মধ্য দিয়ে আরও একটি রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে মেসি। আগামী রোববার নিউজার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামলে এটি হবে তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিল কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগও থাকবে তার সামনে।

ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কণ্ঠে এখন একটি গানই সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে—“ফকল্যান্ডসের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ বিশ্বকাপ গোলের জন্য।” এখন অপেক্ষা শুধু ফাইনালের, যেখানে স্পেনকে হারিয়ে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার লক্ষ্য মেসি ও আর্জেন্টিনার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বলছেন মেসি

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের আরেকটি রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে ওঠার পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি এই জয় উৎসর্গ করেছেন কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে। গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো এটা দারুণভাবে উপভোগ করছে। কারণ আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে ভালো লাগছে। এটাও ওর জন্য একটা উপহার।”

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় আর্জেন্টিনার জন্য ঐতিহাসিক গুরুত্বও বহন করে। কারণ ঠিক ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা করেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দুটি গোল—’হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। সেই ম্যাচটি শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনার জাতীয় আবেগেরও প্রতীক হয়ে আছে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। জার্সিটি হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

জাতীয় সংগীতের সময়ের আবেগের কথা তুলে ধরে মেসি বলেন, “দর্শকদের গুঞ্জন ধীরে ধীরে জোরালো হয়ে উঠছিল। তারা অন্যরকম আবেগ নিয়ে গান গাইছিল, আর আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে সেটা অনুভব করছিলাম। জানতাম এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। সেই অনুভূতি নিয়েই আমরা ম্যাচটি খেলেছি।”

এই জয়ের মধ্য দিয়ে আরও একটি রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে মেসি। আগামী রোববার নিউজার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামলে এটি হবে তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিল কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগও থাকবে তার সামনে।

ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কণ্ঠে এখন একটি গানই সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে—“ফকল্যান্ডসের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ বিশ্বকাপ গোলের জন্য।” এখন অপেক্ষা শুধু ফাইনালের, যেখানে স্পেনকে হারিয়ে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার লক্ষ্য মেসি ও আর্জেন্টিনার।