1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় আবারও চড়া সবজির দাম, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

  মোঃ আব্দুল আলীম, বগুড়া ।
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ঘাটতিতে বগুড়ার সবজি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন, শসা, করলা ও কাঁচা মরিচসহ বেশিরভাগ সবজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে হঠাৎ করে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ কম।  এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় সবজি খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কারণে দাম বাড়তি। তবে সরবরাহ সমস্যার কারণে কোনো কোনো অসাধু ব্যবসায়ী সবজির দাম বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
শুক্রবার বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনী ও খান্দারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুনের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। যা এখন মান ও প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
এ তিনটি সবজি কিনতে হচ্ছে এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। যে করলার দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা তা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া বরবটির দামও বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে।
অন্যদিকে ১০০ টাকার কাঁচামরিচের দাম উঠেছে ১৪০ টাকা কেজি। ২০ টাকায় বিক্রি হওয়া পটলের দাম এখন ৪০ টাকায় উঠেছে।
এছাড়া প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০টাকা, গাজর ১২০টাকা, টমেটো ১৬০টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, তরী, ১০০ টাকা, ফুলকপি ১২০ টাকা ও প্রতি পিস বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫
টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, শুকনো মরিচ ৪০০ টাকা ও আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। যা আগে ছিল ১৬০ টাকা। সোনালী মুরগির ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে
৪৪ টাকায়।  
বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ মাছ প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭’শ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় বিগ্রেডকার্প ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  
এছাড়াও ছোট দেশী টেংরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে বগুড়ার বিভিন্ন জায়গায় পুকুর তলিয়ে গেছে। ফলে পাইকারি আড়তগুলোতেই মাছের আমদানি কম।
বগুড়া ফতেহ আলী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী খোকন মিয়া জানান, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম অসহনীয় হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি সবজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
বাজার করতে আসা নুরুল ইসলাম জানান, বাজারে সব ধরণের সবজির দাম চড়া। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ায় আবারও চড়া সবজির দাম, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০২:০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ঘাটতিতে বগুড়ার সবজি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন, শসা, করলা ও কাঁচা মরিচসহ বেশিরভাগ সবজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে হঠাৎ করে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ কম।  এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় সবজি খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কারণে দাম বাড়তি। তবে সরবরাহ সমস্যার কারণে কোনো কোনো অসাধু ব্যবসায়ী সবজির দাম বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
শুক্রবার বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনী ও খান্দারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুনের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। যা এখন মান ও প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
এ তিনটি সবজি কিনতে হচ্ছে এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। যে করলার দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা তা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া বরবটির দামও বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে।
অন্যদিকে ১০০ টাকার কাঁচামরিচের দাম উঠেছে ১৪০ টাকা কেজি। ২০ টাকায় বিক্রি হওয়া পটলের দাম এখন ৪০ টাকায় উঠেছে।
এছাড়া প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০টাকা, গাজর ১২০টাকা, টমেটো ১৬০টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, তরী, ১০০ টাকা, ফুলকপি ১২০ টাকা ও প্রতি পিস বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫
টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, শুকনো মরিচ ৪০০ টাকা ও আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। যা আগে ছিল ১৬০ টাকা। সোনালী মুরগির ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে
৪৪ টাকায়।  
বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ মাছ প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭’শ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় বিগ্রেডকার্প ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  
এছাড়াও ছোট দেশী টেংরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে বগুড়ার বিভিন্ন জায়গায় পুকুর তলিয়ে গেছে। ফলে পাইকারি আড়তগুলোতেই মাছের আমদানি কম।
বগুড়া ফতেহ আলী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী খোকন মিয়া জানান, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম অসহনীয় হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি সবজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
বাজার করতে আসা নুরুল ইসলাম জানান, বাজারে সব ধরণের সবজির দাম চড়া। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।