1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুল তথ্য দিয়ে হাজিরার টাকা না পেয়ে ৭০ বয়সী বৃদ্ধাকে লাথি মেরেছেন এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান

মো: কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভুল তথ্য ও হয়রানি করে হাজিরার টাকা দাবি করে টাকা না পেয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ৭০ বয়সী বৃদ্ধার বুকে দুইবার লাথি এবং তার মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে ফেলেদেন এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় অবস্থিত জেলা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জায়দা খাতুন সাংবাদিকদের এ ঘটনা জানায়। অভিযোগকারী জায়দা খাতুন রৌমারী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালে মেয়ে উপর স্বামীর নির্যাতনের সঠিত বিচার চেয়ে রৌমারী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলায় ন্যায় বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে আসছেন তিনি।

জায়দা খাতুন স্বামী হারা একজন অসহায় ৭০ বয়সী বিধবা বৃদ্ধা। তিনি মেয়ের ন্যায় বিচারের দাবিতে ভিটামাটি বিক্রি করে শেষে ধার-দেনা করে মানুষের কাছে হাত পেতে আসতেন আদালতে। কিন্তু ভুল তারিখ দেখিয়ে ও ভুল তথ্য দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া আইনজীবী মিজানুর রহমান। পরে ভুল তথ্যের প্রমাণ পাওয়ার পর টাকা দিতে রাজি না হয়ে পূর্বের টাকার হিসাব চায় বৃদ্ধা মহিলা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করলে তার মেয়ে সুমিনা খাতুন প্রতিবাদ করেন। এ সময় মিজানুর রহমান সুমিনা খাতুনকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। মেয়ের উপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে জায়দা খাতুন মেয়েকে রক্ষা করতে আগাতে গেলে এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বুকে লাথি মারেন।

অভিযোগে জায়দা খাতুনের মেয়ে সুমিনা খাতুন বলেন, আমার উপর স্বামীর নির্যাতনের বিচারের জন্য আমার মা ২০২৫ সালে রৌমারী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলা পরিচালন করার জন্য দায়িত্ব নেয় এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। কিন্তু সে উকিল আমাদের কে ভুল তারিখ দিয়ে দিয়ে একাধিকবার অর্থ নিয়েছেন। এখন সে বলে আপনাদের ডাকা হয়নি। এমন একাধিক ভুল তথ্য দিয়ে দিয়ে টাকা নিতেন তিনি। ভুল তথ্যের প্রমাণ পেয়ে যখন টাকা দিতে রাজি না হয়ে আগের টাকার হিসাব চায় আমার মা তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অমানবিক আচরণ শুরু করেন আমাদের উপর। প্রথমে আমাকে ধাক্কা দেয়, তখন আমার মা ৭০ বয়সী চলতে পারে না, সে আগাতে আসলে আমার মায়ের উপরও ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং আমার মাকে ফেলে দিয়ে বুকে দইবার লাথি মারেন। আমি এর বিচার চাই।

অভিযোগকারী জায়দা খাতুন বলেন, আমার স্বামী নেই, ছেলে সন্তান নেই। মামলার জন্য যেটুকু সায়-সম্বল ছিলো সব বেচে দিছি এখন টাকা পয়সা নাই এ জন্য ধার দেনা করি তারপর বোতল কুঁড়ে বিক্রি করি। আমি রৌমারী থেকে নৌকায় করে আসি তারপর আবার গাড়ীতে আসতে হয়। আমি বলছি উকিলকে আমরা গরিব মানুষ। তাও সে ভুল খবর দিয়ে দিয়ে আমার কাছে থেকে টাকা নেয়। আজকে আমি ভুল তথ্যের প্রমাণ পেয়ে টাকা দিতে রাজি না হয়ে আগের টাকার হিসাব চাই। তখন সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। আমার মেয়েকে ধাক্কা দেয় আমাকে ধাক্কা দিয়ে বুকে লাথি মারছে দুইবার। আমরা কী গরিব জন্য মানুষ না?

ঘটনার পর বিচার চেয়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দায়রা আদালত ও কুড়িগ্রাম সদর থানায় পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন জায়দা খাতুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

ভুল তথ্য দিয়ে হাজিরার টাকা না পেয়ে ৭০ বয়সী বৃদ্ধাকে লাথি মেরেছেন এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান

আপডেট সময় : ০২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ভুল তথ্য ও হয়রানি করে হাজিরার টাকা দাবি করে টাকা না পেয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ৭০ বয়সী বৃদ্ধার বুকে দুইবার লাথি এবং তার মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে ফেলেদেন এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় অবস্থিত জেলা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জায়দা খাতুন সাংবাদিকদের এ ঘটনা জানায়। অভিযোগকারী জায়দা খাতুন রৌমারী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালে মেয়ে উপর স্বামীর নির্যাতনের সঠিত বিচার চেয়ে রৌমারী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলায় ন্যায় বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে আসছেন তিনি।

জায়দা খাতুন স্বামী হারা একজন অসহায় ৭০ বয়সী বিধবা বৃদ্ধা। তিনি মেয়ের ন্যায় বিচারের দাবিতে ভিটামাটি বিক্রি করে শেষে ধার-দেনা করে মানুষের কাছে হাত পেতে আসতেন আদালতে। কিন্তু ভুল তারিখ দেখিয়ে ও ভুল তথ্য দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া আইনজীবী মিজানুর রহমান। পরে ভুল তথ্যের প্রমাণ পাওয়ার পর টাকা দিতে রাজি না হয়ে পূর্বের টাকার হিসাব চায় বৃদ্ধা মহিলা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করলে তার মেয়ে সুমিনা খাতুন প্রতিবাদ করেন। এ সময় মিজানুর রহমান সুমিনা খাতুনকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। মেয়ের উপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে জায়দা খাতুন মেয়েকে রক্ষা করতে আগাতে গেলে এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বুকে লাথি মারেন।

অভিযোগে জায়দা খাতুনের মেয়ে সুমিনা খাতুন বলেন, আমার উপর স্বামীর নির্যাতনের বিচারের জন্য আমার মা ২০২৫ সালে রৌমারী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলা পরিচালন করার জন্য দায়িত্ব নেয় এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। কিন্তু সে উকিল আমাদের কে ভুল তারিখ দিয়ে দিয়ে একাধিকবার অর্থ নিয়েছেন। এখন সে বলে আপনাদের ডাকা হয়নি। এমন একাধিক ভুল তথ্য দিয়ে দিয়ে টাকা নিতেন তিনি। ভুল তথ্যের প্রমাণ পেয়ে যখন টাকা দিতে রাজি না হয়ে আগের টাকার হিসাব চায় আমার মা তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অমানবিক আচরণ শুরু করেন আমাদের উপর। প্রথমে আমাকে ধাক্কা দেয়, তখন আমার মা ৭০ বয়সী চলতে পারে না, সে আগাতে আসলে আমার মায়ের উপরও ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং আমার মাকে ফেলে দিয়ে বুকে দইবার লাথি মারেন। আমি এর বিচার চাই।

অভিযোগকারী জায়দা খাতুন বলেন, আমার স্বামী নেই, ছেলে সন্তান নেই। মামলার জন্য যেটুকু সায়-সম্বল ছিলো সব বেচে দিছি এখন টাকা পয়সা নাই এ জন্য ধার দেনা করি তারপর বোতল কুঁড়ে বিক্রি করি। আমি রৌমারী থেকে নৌকায় করে আসি তারপর আবার গাড়ীতে আসতে হয়। আমি বলছি উকিলকে আমরা গরিব মানুষ। তাও সে ভুল খবর দিয়ে দিয়ে আমার কাছে থেকে টাকা নেয়। আজকে আমি ভুল তথ্যের প্রমাণ পেয়ে টাকা দিতে রাজি না হয়ে আগের টাকার হিসাব চাই। তখন সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। আমার মেয়েকে ধাক্কা দেয় আমাকে ধাক্কা দিয়ে বুকে লাথি মারছে দুইবার। আমরা কী গরিব জন্য মানুষ না?

ঘটনার পর বিচার চেয়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দায়রা আদালত ও কুড়িগ্রাম সদর থানায় পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন জায়দা খাতুন।